অভিমতলীড-6

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! চিকিৎসক নিগ্রহকারীর ১০ বছরের জেল চাই

ডা. জাহিদুর রহমান :

কিছু কিছু ক্ষেত্রে মরণাপন্ন রোগীদেরও জরুরি চিকিৎসা দিয়ে বাঁচানো যায়। প্রচুর রক্তক্ষরণের একজন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার সাথে সাথে একটি স্যালাইন দেয়া হলেই রোগীটি বেঁচে যেতে পারেন। একজন প্রচন্ড শ্বাসকষ্টের একটি স্টেরয়েড ইনজেকশন দিয়ে কিংবা একজন হার্ট এটাকের রোগীকে একটি প্যাথেডিন ইনজেকশন দিয়ে তার জীবন বাঁচানো যায়। এ ধরনের কোন রোগী যখন থানা বা জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে আসেন, তখন সেখানকার কর্মরত ডাক্তার রোগীকে জরুরি চিকিৎসগুলো দিয়ে বিভাগ পর্যায়ের বিশেষায়িত হাসপাতাল কিংবা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে রেফার্ড করেন। একজন মুমূর্ষ রোগী যে কোন সময় মারা যেতে পারেন, সব ধরনের চিকিৎসা দেয়ার পরও মারা যেতে পারেন। এখন যদি আপনি বলেন রক্তক্ষরণের রোগীকে স্যালাইন দেয়ার ফলে সে মারা গিয়েছে, শ্বাসকষ্টের রোগীকে স্টেরয়েড ইনজেকশন দেয়ার কারণে সে মারা গিয়েছে, হার্ট এটাকের রোগীকে প্যাথেডিন ইনজেকশন দেয়ার কারণে সে মারা গিয়েছে, তাহলে রোগীকে চিকিৎসা প্রদানকারী চিকিৎসকের মনের অবস্থা কেমন হতে পারে, সেটা কি একবার ভেবে দেখেছেন? ইদানিং শুধু অভিযোগ করেই ঘটনা শেষ হয়ে যাচ্ছে না। জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করার অপরাধে চিকিৎসকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করা হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশের কোন নস কোন হাসপাতালে চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলা হচ্ছে। এর ফলে সুযোগ থাকার পরও চিকিৎসকরা রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে ভয় পাচ্ছেন, যত দ্রুত সম্ভব অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করে দিচ্ছেন। এতে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিটা কার হচ্ছে একবার ভেবে দেখেছেন? এরকমভাবে বুঝিয়ে দেয়ার পরও অবশ্য কিছু মানুষ ঠিকই চিকিৎসকের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। তাদের ঠেকাতে “চিকিৎসক সুরক্ষা আইন” প্রণয়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আপনি আমার কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছেন, আমার যদি আপনার আত্মীয় স্বজনের হাতে মার খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে আপনি আমার কাছ থেকে কি আন্তরিকতা আশা করতে পারেন?

গত কয়েক বছরে ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসকের উপরে সহিংসতা মারাত্মক রূপ ধারণা করেছে। কয়েকমাস আগে কলকাতার এক চিকিৎসক রোগীর স্বজনদের হাতে মার খেয়ে প্রায় মরতে বসেছিলেন। এই ঘটনায় পুরো ভারত জুড়ে চিকিৎসকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন। কিছুদিন আগে এক চিকিৎসককে চা বাগানের শ্রমিকরা পিটিয়ে মেরেই ফেলেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নিজে চিকিৎসকের উপর এরকম সন্ত্রাসী হামলা বন্ধ করার বিষয়ে সচেতন ছিলেন। গত সপ্তাহে সেখানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী “হেলথ কেয়ার সার্ভিস পারসোনেল অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল এসট্যাব্লিশমেন্টআইন- ২০১৯” নামে একটি আইনের খসড়া উপস্থাপন করেন। যাতে কর্মক্ষেত্রে কোন চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলার শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল অথবা ১০ লাখ টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে। এই আইনের আওতায় গ্রেফতারকৃত আসামি জামিনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে এবং পুরো আইনি প্রক্রিয়াটি দ্রুততার সাথে শেষ হবে। কয়েকদিনের মধ্যেই হয়ত আইনটি সংসদে পাশ হয়ে যাবে।

আমরাও ভারতের এই আইনটির মত একটি আইন চাই, সেটার নাম যাই হোক, কাজ হতে হবে একটাই, চিকিৎসকের গায়ে হাত তুললেই গ্রেফতার, জেল, জরিমানা। আমরা এই মুহূর্তেই চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা দানের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আমরা চাই না উনাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য রোগীর আত্মীয়স্বজনের হাতে কোন চিকিৎসককে জীবন দিতে হোক।