খবরজাতীয়লীড-6

ই-টিআইএন ছাড়া চিকিৎসকদের নিবন্ধন নয়- বিএমডিসিকে এনবিআরের চিঠি

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু রাজধানীতে ই-টিআইএন আছে এমন চিকিৎসকের সংখ্যা প্রায় ২১ হাজার। সারা দেশে আরো প্রায় ৫০ হাজার ই-টিআইএনধারী চিকিৎসক আছেন। সারা দেশে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। চিকিৎসকদের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে রয়েছে এনবিআরের কর অঞ্চল-১০। এরই মধ্যে চিকিৎসকদের রাজস্ব পরিশোধে স্বচ্ছতা আনতে এনবিআর বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম কর অঞ্চল-১০ বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) চিঠি দিয়ে চিকিৎসকদের নিবন্ধনের সময়ে ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করার অনুরোধ জানিয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার নির্দেশে চলতি অর্থবছর এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও কর অঞ্চল-১০ যৌথভাবে চিকিৎসকদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কর অঞ্চল-১০ ও সিআইসি রাজধানীর নামিদামি যেসব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চেম্বারে চিকিৎসকরা রোগী দেখেন তার তালিকা করেছে। এসব জায়গায় পরিচয় গোপন করে এনবিআর কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে রোগী দেখার তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করার চেষ্টা করছেন। আবার নোটিশ ছাড়াই হাজির হয়ে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের আয়-ব্যয়ের তথ্যের সত্যতা যাচাই করছেন। তদন্তকালে হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেসব চিকিৎসক নিয়মিত রোগী দেখে থাকেন তাঁরা গড়ে প্রতিদিন কতজন রোগী দেখছেন সেই তথ্য হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংগ্রহ করছেন।

তদন্তকালে রোগী দেখা ছাড়া চিকিৎসককের অন্য কোনো আয় আছে কি না এনবিআর কর্মকর্তারা সে তথ্যও জোগাড় করছেন। চিকিৎসকদের আয় ও সম্পদের সব তথ্য জোগাড় করার পর তাঁদের আয়কর বিবরণীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এভাবে এনবিআর কর্মকর্তারা চিকিৎসকদের রাজস্ব ফাঁকির তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করছেন।

কর অঞ্চল-১০ এর কমিশনার মো. আবু তাহের চৌধুরী বলেন, ‘চিকিৎসকদের কাছ থেকে হিসাবমতো রাজস্ব আদায়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।’ তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকদের রোগী দেখার জন্য বিএমডিসি থেকে নিবন্ধন নিতে হয়। আমরা সেখানে নজর দিয়েছি। ই-টিআইএন ছাড়া কোনো চিকিৎসককে নিবন্ধন না দিতে এরই মধ্যে আমরা চিঠি দিয়ে বিএমডিসিকে অনুরোধ করেছি। আশা করছি প্রতিষ্ঠানটি তা মেনে চলছে।’

প্রতিবেদনে চিকিৎসকদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ে তথ্য-প্রমাণের অভাব এবং তদবির সুপারিশকে অন্যতম বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এনবিআর।