নার্সলীড-2

নার্সিং অধিদফতরকে ফের দুর্নীতির আখড়া বানানোর চেষ্টা!

নার্সিং ইনস্টিটিউট, নার্সিং কলেজ ও নার্সিং অধিদফতরকে আবারও দুর্নীতি-টেন্ডারবাজির আখড়া হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতির দায়ে যেসব কর্মকর্তাকে এই অধিদফতর থেকে বদলি করা হয়েছিল, তাদের পদন্নোতি দিয়ে ফিরিয়ে আনার পায়তারা চলছে বলে জানা গেছে।

সরকার পরিচালিত নার্সিং কোর্সে ভর্তি বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে অধিদফতরটির দুই সহকারী পরিচালক (নিজ বেতনে বা প্রজেক্টের অন্তর্গত) শিরিনা আক্তার ও শাহীনুর বেগমকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বদলি করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, এবার পদোন্নতি দিয়ে তাদের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে, এ জন্য মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদনও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র প্রমাণসহ নিশ্চিত করেছে, দুর্নীতিগ্রস্ত ওই দুই কর্মকর্তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) শিরিনা দেলহূর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি শিরিনা আক্তার ও শাহীনুর বেগমকে পদোন্নতি দেওয়ারও অনুরোধ করেছেন।

চলতি মাসের ১৯ সেপ্টেম্বর পাঠানো এক আবেদনপত্রে শিরিনা দেলহূর উল্লেখ করেছেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ৬ তারিখে একটি স্মারকে ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সময়ে যোগ দেওয়া বিএসসি নার্সিং পাবলিক হেলথ ডিগ্রিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা অনুমোদিত হয়েছে এবং পরবর্তী পদন্নোতির জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের সুপারিশের অপেক্ষায় থাকাদের তালিকায় ওই কর্মকর্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরে দশম গ্রেডভুক্ত পদ না থাকায় বর্ণিত কর্মকর্তাদের অধিদফতরে পদায়ন সম্ভব হবে না। অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের অন্য জায়গায় পাঠানো হলে তাদের দায়িত্ব থাকা কার্যক্রম পরিচালনা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গত ১৭ সেপ্টেম্বর অফিস আদেশে বদলিপূর্বক পদায়ন করা তিনজন নার্সিং কর্মকর্তার মধ্যে শিরিনা আক্তার ও শাহীনূর বেগমের আদেশটি পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানানো হলো।

জানা গেছে, ভর্তি-বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত হওয়ার পর এই দুই সহকারী পরিচালককে অধিদফতর থেকে বদলি করা হয়। অধিদফতরের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, পরিচালক শিরিনা দেলহূরের ছত্রছায়ায় টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে নার্সিং কোর্সে ভর্তির জন্য ঘুষ নেন এই দুই কর্মকর্তা। তাছাড়া, তারা হলেন সরকারি দশম গ্রেডের অধিভুক্ত কর্মকর্তা। তাদের নবম গ্রেডে পদোন্নতি দিয়ে আবারও অধিদফতরে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেন আরও শক্তপোক্ত অবস্থানে বসে দুর্নীতি করা যায়। এর আগেও ভর্তি বাণিজ্যের নামে প্রতিটি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছিল এই চক্রটি। টাকা নিয়ে ভর্তি করেনি, এমন প্রমাণও রয়েছে।

এদিকে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরে সহকারী পরিচালক হিসেবে সুলতানা পারভীন ও মোসা. শামসুন নাহারকে বদলি করা হয়েছে। সুলতানা পারভীন এর আগে নারায়নগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এবং মোসা. শামসুন নাহার বগুড়া নার্সিং কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

কিন্তু, ক্ষমতাবলে শিরিনা দেলহূর দুই সহকারী পরিচালকের বদলি আদেশ পরিবর্তনের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন বলে জানা গেছে। ওই দুই নারী কর্মকর্তাও নিয়মিত অধিদফতরে এসে যোগদানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ফিরিয়ে এনে অধিদফতরকে দুর্নীতির আখড়া বানাতে সুবিধা হবে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) শিরিনা দেলহূরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকি, অধিদফতরে গিয়ে দেখা করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক শাহাদাত হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করেছেন শিরিনা আক্তার ও শাহীনূর বেগম।

 

সৌজন্যে : বাংলানিউজ২৪.কম।