অভিমতলীড-2

বস্তাভরা টাকাগুলো পেলে বানাতাম প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টার!

ডা. গুলজার হোসেন উজ্জল :

১.
বস্তাভরা টাকাগুলো পেলে একটা প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টার করতাম। ক্যান্সার সহ এরকম অনিরাময়যোগ্য অসুখে কিছু মানুষ ভুগতে থাকে। এদের শেষ জীবন খুব কষ্টের হয়। আমাদের দেশে কি হয়, এই মানুষগুলি রোগের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে যায়।

সরকারি হাসপাতাল থেকে বলা হয় আমাদের তো কিছু করার নেই, বাড়ি নিয়ে যান। রোগীরা বাড়ি যায়। কিন্তু যখন শারীরিক কষ্ট বেড়ে যায় যেমন শ্বাসকষ্ট, তীব্র ব্যথা, রক্তক্ষরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে তারা আবার দিশেহারা হয়ে যায়। এরপর তারা ছোটে বেসরকারি হাসপাতালে৷ সেখানে তাদের বলা হয় আপনার রোগীর আইসিইউ লাগবে, লাইফ সাপোর্ট লাগবে।

আসলে যে রোগ অনিরাময় যোগ্য, ভাল হবার নয়, যাকে বলি টারমিনাল স্টেজ তাকে লাইফ সাপোর্ট দেবার নিয়ম নেই। তাকে দিতে হয় প্যালিয়েটিভ কেয়ার। কিন্তু আমাদের দেশে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের চল নেই। বড় বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলিও প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টার করেনা। কারণ ওতে তেমন আয় হয়না। এরচে আইসিইউ থেকে আয় বেশি। আমি নিজে অনেক চেষ্টা করেও দেখেছি, রাজি করাতে পারিনি। অনেকবেশি লাভ নেই এমন খাতে কেউ বিনিয়োগ করতে চায়না।

প্যালিয়েটিভ কেয়ার মানে হলো প্রশমন সেবা৷ রোগ আরোগ্য হবেনা কিন্তু কষ্ট কমিয়ে প্রশান্তি দেওয়া যাবে এমন ব্যবস্থাই হলো প্যালিয়েটিভ কেয়ার।
বাংলাদেশে প্রচুর প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টার দরকার। মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে, অসংক্রামক রোগ বাড়ছে। প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টার না বানিয়ে উপায় নেই। শুধু বিএসএমএমইউ আর হাতে গোনা অল্পকিছু বেসরকারি সেন্টার দিয়ে আমাদের হবেনা। অনেক লাগবে।

বস্তায় বস্তায় টাকা ফেলে দেওয়া দেখলে আমার আফসোস হয়৷ টাকাগুলি দিয়ে একটা প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টার করতে পারতাম।

আহা যদি পারতাম!

বিঃদ্রঃ সিরিজ আকারে এরকম আরো কয়েকটি ইচ্ছার কথা বলতে পারি। বলতেও তো সুখ।

#স্বপ্নবয়ন
#পাগলের_সুখ_মনেমনে