অভিমতলীড-2

এতো বিভাজনে চিকিৎসা পেশার উন্নতি হবে কিভাবে?

ডা. জাহিদুর রহমান :

“Superiority complex” একটি আচরণগত সমস্যা। এ সমস্যায় ভোগা মানুষরা অনর্থক নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় ভাবে। বাংলাদেশের ডাক্তারদের একটা অংশ এই সমস্যায় ভুগছে। এতে তারা শুধু অন্যান্য পেশাজীবীদের কাছ থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে না, নিজেদের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টি করে চলেছে। তাদের কাছে পরীক্ষার নম্বরই মেধা যাচাইয়ের একমাত্র উপায়। বিজ্ঞান বিভাগ (বায়োলজিসহ, গণিত না) ছাড়া জগতের বাকি সব বিষয় তুচ্ছ। আজকে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারন মানুষ, সবার কাছে ডাক্তারদের সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারণা, সেটিরও একটি অন্যতম কারন এই Superiority complex ।

ডাক্তারদের নিজেদের মধ্যে করা বিভাজনগুলো আরো করুণ। সরকারি নাকি বেসরকারি মেডিক্যাল, সরকারি হলে তার ভিতরে আবার ঢাকার মধ্যে নাকি ঢাকার বাইরে, ইত্যাদি। ঢাকার প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজগুলোর মান ঢাকার বাইরের সরকারি বেশিরভাগ মেডিকেল কলেজের চেয়ে অনেক ভাল। ঢাকা, সলিমুল্লাহ কিংবা চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে পাশ করার ১৫-২০ বছর পরও অনেকে গুগল না করে একটা ওষুধের নাম লিখতে পারে না, মাস্তানি বা ধান্দাবাজি করে পেট চালাতে হয়। অথচ তারই রংপুর, বরিশাল কিংবা ময়মনসিংহ মেডিকেল থেকে পাশ করা বন্ধুটি সেই সময়ে পোস্ট গ্রাজুয়েন করে, পদোন্নতি পেয়ে অধ্যাপক হয়ে যায়। ডাক্তার সরকারি নাকি প্রাইভেট চাকরি হাসপাতালে চাকরি করে, এ নিয়েও অনেক বেহুদা বিতর্ক।

ডাক্তারির বিষয় নিয়েও আছে বিচিত্র বিভাজন। ক্লিনিক্যাল নাকি বেসিক, মেডিসিন নাকি সার্জারি, প্রফেসর নাকি কনস্যালটেন্ট, এমডি নাকি এফসিপিএস, ইত্যাদি ইত্যাদি। নামের পিছনে ডিগ্রি যোগ করার চিন্তা বাদ দিয়ে নামের আগে ডা লেখা নিয়ে কান্নাকাটি। সকালে ফিজিও, দুপুরে স্যাকমো, রাতে পল্লী ডাক্তার। একেক বেলায় একেক গোত্রের লোকজন “ডা” শব্দটা ধরে টান দেয় আর কান্নার রোল ওঠে। ইদানিং আবার সাদা এপ্রোন ধরেও টানাটানি শুরু হয়েছে। ওদিকে দেশ ডিজিটাল হওয়ার পরও যে মেডিকেল শিক্ষার মান নিম্নগামী, সেদিকে কারো কোন খেয়াল নেই।

অধিকাংশ তরুণ ডাক্তার পরিবর্তন চায়, সব পেশার মানুষদের সম্মান দিয়েই নিজের প্রাপ্যটুকু আশা করে। তাদের জন্যও এই Superiority complex এ ভোগা আধাবুড়ো ডাক্তারগুলো এক বিশাল বাধা। কোন একটা ন্যায্য দাবি আদায়ের পূর্বশর্ত হল একতা। এতো বিভাজন থাকলে সেই পেশার উন্নতি হবে কিভাবে? ফেসবুকে হাঁটুর বয়সী টেকনলোজিস্টকে গালিগালাজ করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলবেন আর ওদিকে ভারতের ডাক্তাররা এসে বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দিয়ে যাবে।