গুণীলীড

ডা. জোহরা বেগম কাজী চিকিৎসকদের জন্য অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব ও রোল মডেল

চিকিৎসকদের জন্য আদর্শ ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব ও রোল মডেল ছিলেন অধ্যাপক ডা. জোহরা বেগম কাজী। তিনি বিনামূল্যে এমনকি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়েও সেবা দিয়েছেন। মহাত্মা গান্ধীর আশ্রমেও তিনি রোগীদের সেবা দিয়েছেন। শিক্ষক হিসেবেও তিনি ছিলেন আদর্শ ও মহান শিক্ষক।  উপমহাদেশের প্রথম বাঙালি মুসলিম মহিলা চিকিৎসাবিদ অধ্যাপক ডা. জোহরা বেগম কাজী স্মরণে তাঁর ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব কথা  বলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে মঙ্গলবার বিকেলে আয়োজিত স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় সংস্কার) শেখ মজিবুর রহমান, বিএসএমএমইউ’র প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. লতিফা সামসুদ্দিন। মুখ্য আলোচক ছিলেন বিএমএ এর সাবেক মহাসচিব ডা. সারোয়ার আলী। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুস সবুর। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা. জোহরা বেগম কাজী পরিষদের সভাপতি ও দুদক কমিশনার ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. নাজমুল করিম মানিক। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আলোচনা সভার প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের চারবারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে নারীর ক্ষমতায়ণসহ সকল ক্ষেত্রে নারীর জাগরণ ঘটেছে। এবছর এমবিবিএস ডিগ্রী অর্জনের জন্য ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭০ শতাংশই ছাত্রী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, সেবাই পরম ধর্ম। গুণী শিক্ষক, মহান চিকিৎসক, বহুমুখী গুণের অধিকারী, মহিয়সী নারী অধ্যাপক ডা. জোহরা বেগম কাজীর জীবানাদর্শকে অনুসরণ করে দরদী মন নিয়ে রোগীদের সেবা দিতে হবে। নিজেকে ভালো চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।  উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. জোহরা বেগম কাজী স্মরণে তাঁর নামে মেডিক্যাল কলেজ বা এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ডা. জোহরা বেগম কাজী ১৯১২ সালের ১৫ অক্টোবর অবিভক্ত ভারতের মধ্য প্রদেশের রাজনান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২৩ বছর বয়সেই তিনি দিল্লীর লেডি হাডিং মেডিক্যাল কলেজ থেকে ১৯৩৫ সালে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমবিবিএস পাস করেন। এজন্য পুরস্কার হিসেবে পান ভাইসরয় পদক। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যোগ দেন। ১৯৭৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেবার পর বেশকিছু বছর হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে কনসালটেন্ট হিসাবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।