খবরলীড

অর্ধেক খরচে নিয়মিত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করবে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল

এখন থেকে অর্ধেক খরচে নিয়মিত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার ঘোষণা দিয়েছে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বারডেম হাসপাতালের চীফ সার্জন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সফলভাবে আমরা তৃতীয় রোগী হিসেবে জাহানারা খাতুনের লিভার প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করি এবং আমরা সফল হই। জাহানারা খাতুনকে লিভারের একটি অংশ দান করেছেন তার ছেলে এডভোকেট শরিফুল ইসলাম। লিভারদাতা ও গ্রহীতা দুজনেই সুস্থ আছেন। ৩০ সদস্যের এই চিকিৎসক দলের নেতৃত্বে আছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী।

এই সাফল্যের ধারবাহিকতায় বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠান ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়মিতভাবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট (প্রতিস্থাপন) করার ঘোষণা দেন ডা. মোহাম্মদ আলী। তিনি  বলেন, আমাদের দেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে রোগীরই খরচ পরে ২০-২৫ লাখ টাকা (শুধু চিকিৎসা, অপারেশন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা) তবে সব মিলিয়ে রোগীর প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হবে। যা দেশের বাহিরে প্রায় দ্বিগুণ খরচ পরে।

লিভার প্রতিস্থাপন সম্পর্কে বারডেম হাসপাতালের চীফ সার্জন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা ২০১০ সালের ৩ জুন প্রথম সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করি। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ৬ আগস্ট দ্বিতীয়বারের মতো লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টেও সফল হই। এর পরেও বিভিন্ন কারণে এটা নিয়মিত করা যায়নি। তবে এখন থেকে আমরা নিয়মিত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করবো।

ডা.আলী বলেন, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সব থেকে বড় বাধা ডোনার। রোগীরা ডোনার ম্যানেজ করতেই হিমশিম খায়। লিভারের রোগীদের আত্মীয়রা ডোনার হিসেবে এগিয়ে আসলে এ কাজ আরো সহজ হবে।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সফলভাবে আমরা তৃতীয় রোগী হিসেবে জাহানারা খাতুনের লিভার প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করি এবং আমরা সফল হই। জাহানারা খাতুনকে লিভারের একটি অংশ দান করেছেন তার ছেলে এডভোকেট শরিফুল ইসলাম। লিভারদাতা ও গ্রহীতা দুজনেই সুস্থ আছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের লিভার ফেইলিয়ারে আক্রান্ত হাজার হাজার মানুষ, সাশ্রয়ী মূল্যে তার জীবন রক্ষাকারী শেষ চিকিৎসা হিসেবে নিজ দেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সুফল পেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আপনারা দেশেই চিকিৎসা করান, আমাদের দেশে এখন অনেক ভালো ভালো ডাক্তার আছে।

এছাড়াও এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান, মহাসচিব মো. সাইফ উদ্দিন, বারডেম জেনারেল হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক জাফর আহমেদ লতিফ, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সিইও অধ্যাপক এম এ রশীদ, অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী ছাড়াও চিকিৎসক দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে অরগ্যান ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিট (Organ Transplant Unit) হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। লিভার ট্রন্সপ্লান্ট কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া ও দক্ষজনবল তৈরির লক্ষ্যে ভারতের বিখ্যাত ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সাথে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সমঝোতা স্মারক (মেমোরেনডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষর হয়েছে। এর আলোকে বাংলাদেশের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারির প্রথিকৃৎ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী ও ভারতের খ্যাতিমান লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক সুভাষ গুপ্ত যৌথভাবে কাজ করবেন।