খবরগুণীজাতীয়লীড

স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন দুইজন প্রখ্যাত চিকিৎসক

চিকিৎসাবিদ্যায় বিশেষ অবদানের জন্য দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক পাচ্ছেন দুইজন খ্যাতিমান চিকিৎসক। এরা হচ্ছেন বিশিষ্ট চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. উবায়দুল কবীর চৌধুরী (এম ইউ কবীর চৌধুরী) এবং চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ  অধ্যাপক ডা. এ কে এম এ মুক্‌তাদির। নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য বৃহস্পতিবার এই দুই চিকিৎসকসহ মোট ৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের নাম স্বাধীনতা পদকের জন্য ঘোষণা করা হয়।

স্বাধীনতা পদকের জন্য ঘোষিত অপর ৬ বিশিষ্ট ব্যক্তি হচ্ছেন- স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের জন্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক, মরহুম কমান্ডার (অব.) আবদুর রউফ, মরহুম মুহম্মদ আনোয়ার পাশা ও আজিজুর রহমান; সাহিত্যে মুক্তিযোদ্ধা এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মদ এবং সংস্কৃতিতে কালীপদ দাস ও ফেরদৌসী মজুমদার। এ ছাড়া শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ভারতেশ্বরী হোমস্‌ এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছে।

এক নজরে অধ্যাপক ডা. উবায়দুল কবীর চৌধুরী :

১৯৭৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন অধ্যাপক ডা. উবায়দুল কবীর চৌধুরী। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি শমরিতা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

এক নজরে অধ্যাপক ডা. এ কে এম এ মুক্তাদির :

তিনি ১৯৭৫ সালে চিকিৎসক হওয়ার পর ১৯৭৭ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিবছরই সপ্তাহব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু শিবির করে নয় হাজার ৫৩৫জন রোগীর চোখের ছানি অপারেশন করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম এ মুকতাদির তার সহধর্মীনি গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. মাহমুদা খাতুনের সহযোগিতায় ২০০৪ সালে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার নিজ গ্রাম বোকাইনগর নয়াপাড়ায় পৈত্রিক পাঁচ একর জমিতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ডা. মুকতাদির চক্ষু হাসপাতাল’।

চারতলা ভবনে দু’টি অপারেশন থিয়েটার, ভিআইপি রোগীদের জন্য ৩টি এসি কেবিন, ৬টি নন এসি কেবিন, পুরুষ-মহিলাদের পৃথক নামাজখানা, বিশ্রামাগার, স্টাফ ক্যান্টিন, রোগীর স্বজনদের জন্য আলাদা ক্যান্টিন, প্রতিটি ফ্লোরে দর্শনার্থীদের জন্য রঙিন টিভি ও মনিটরের মাধ্যমে ছানি অপারেশন সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুবিধাও রয়েছে।

প্রতি শুক্র ও শনিবার সার্জিকেল টিমের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে রোগীদের চোখে ল্যান্স সংযোজনসহ ছানি অপারেশন, নেত্রনালি অপারেশন, চোখের মাংস বৃদ্ধি অপারেশন, গ্লোকোমার অপারেশন, শিশুর নেত্রনালী অপারশেন, চোখে কৃত্রিম চোখ সংযোজন, চোখের গুটি অপারেশন, টিউমার অপারেশন, টেরা-বাঁকা চোখ অপারেশন ও চোখের ক্ষত অপসারণ করা হয়।