ঔষধখবরলীড

ওষুধ শিল্পের শীর্ষস্থানে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার

দেশের ওষুধ শিল্প অনেক এগিয়েছে। বর্তমানে চাহিদার ৯৭ শতাংশ ওষুধ বাংলাদেশ নিজেই উৎপাদন করতে সক্ষম। দেশের ওষুধ ১৫০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। সরকারের নীতিসহায়তা ও কমপ্লায়েন্ট ইস্যুতে আরো নজর দেওয়া গেলে এ খাতের শীর্ষস্থানে যাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার। গতকাল শনিবার ১২তম এশিয়া ফার্মা এক্সপোতে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তা  ও দর্শনার্থীরা এ কথা বলেন।

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) গত শুক্রবার থেকে তিন দিনব্যাপী ওষুধ শিল্পের সবচেয়ে বড় এই প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। গতকাল ছিল মেলার দ্বিতীয় দিন। ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই মেলায় ভিড় করে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও খাতসংশ্লিষ্টরা।

দেশীয় উদ্যোক্তাদের কাছে ওষুধ শিল্পের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির পরিচয় করিয়ে দিতে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি, জিপিই এক্সপো প্রাইভেট লিমিটেড, অ্যালিয়েন্ট লিমিটেড যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। মেলা ঘুরে দেখা যায়, ওষুধ শিল্পের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, ওষুধ তৈরির মেশিন এবং কাঁচামাল মিলছে একই ছাদের নিচে। বিশ্বের ১৮টি দেশের ওষুধ শিল্প উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ৫০০ স্টল এতে অংশ নিয়েছে।

এক্সপোতে অংশ নিয়েছে ওষুধ শিল্পের মেশিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এমএনআর টেকনো ট্রেডাস।  প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশ থেকে মেশিন আমদানি করে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সরবরাহ করে থাকে। এর চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান সোহেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের ওষুধ শিল্প খুবই ভালো করছে। দেশের যে চাহিদা তার ৯৭ শতাংশই আমরা উৎপাদন করতে সক্ষম। আমাদের ওষুধ ১৫০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ওষুধ শিল্প এরই মধ্যে যে পর্যায়ে গেছে, তাতে ভবিষ্যতে তৈরি পোশাককেও অতিক্রম করে যেতে পারে।’ কেমন সাড়া পাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে চীনের উদ্যোক্তারা মেলায় অংশ নিতে পারেননি। এ কারণে এবারের মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম।’

মেলা ঘুরে দেখছিলেন প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের আমদানি শাখার সহকারী পরিচালক শাহিন আহমেদ। মেলার আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘টেক্সটাইলের ল্যাব ইক্যুইপমেন্ট খুঁজতে মেলায় এসেছি, কিন্তু পাইনি। এর কারণ হতে পারে ওষুধ শিল্পকেন্দ্রিক হওয়ায় উদ্যোক্তারা এ ধরনের মেশিন মেলায় প্রদর্শনের জন্য আনেননি।’ ওষুধ শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, দেশের ওষুধ শিল্প অনেক এগিয়েছে। আমরা ওষুধ উৎপাদনে নিজেরাই স্বয়ংসম্পুর্ণ হয়ে উঠেছি। এ খাতকে আরো এগিয়ে নিতে এখন প্রয়োজন সরকারের নীতি সহায়তা। সেই সঙ্গে কমপ্লায়েন্ট ইস্যুতে আরো নজর দেওয়া গেলে এ খাতের শীর্ষস্থানে যাওয়া কেবলই সময়ের ব্যাপার।

মেলায় অংশ নিয়েছে ওষুধের ক্যাপসুল শেল তৈরি ও সরবরাকারী প্রতিষ্ঠান অফসোনিন গ্রুপের গ্লোবাল ক্যাপসুল। এ প্রতিষ্ঠানের সহকারী বিক্রয় ব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের একমাত্র ক্যাপসুল শেল তৈরি ও সরবরাকারি প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ক্যাপসুল। দেশের চাহিদার ৬০ শতাংশ আমাদের ক্যাপসুল শেল দিয়েই পূরণ হচ্ছে। যদিও দেশে চাহিদার ৮০ শতাংশ ক্যাপসুল শেল উৎপাদন সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।

মেলায় আসা বায়োফার্মা লিমিটেডের সাপ্লাই চেইন ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যাদের ব্যবসা রয়েছে, তাদের সঙ্গে সম্পর্কটা আরো জোরদার করা, নতুন নতুন প্রযুক্তি  ও মেশিনারি সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার জন্য মেলায় এসেছি। একই ছাদের নিচে এ ধরনের আয়োজন সত্যিই অসাধারণ।