অভিমতলীড

করোনা রোগীদের চিকিৎসায় যেভাবে প্রস্তুতি নেবেন চিকিৎসক-নার্স

কামারুজ্জামান নাবিল :

সারাবিশ্বে যখন করোনাভাইরাস নিয়ে সবাই নিরাপদে থাকায় ব্যস্ত ঠিক তখন মানবতার খাতিরে নিজেদের জীবন বাজি রেখে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সেবা দিতে যারা সরাসরি লড়ে যাচ্ছেন তাঁরা হচ্ছেন বিশ্বের অগণিত চিকিৎসক ও নার্সরা। সেক্ষেত্রে নিয়োজিতদের নিজেদের নিরাপদ রাখতে কি ধরণের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তা নিয়েই আজকের লেখা।

প্রথমত, নিজেকে নিরাপদ রাখতে প্রাথমিক যে সরঞ্জামগুলো দরকার তা হচ্ছে, গাউন অর্থাৎ স্পেশাল পোশাক, N95 অথবা FFP2 মাস্ক যদি এই মাস্কগুলো হাতের নাগালে না থাকে তবে সার্জিকাল মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া হাতের গ্লাভস এবং চোখের সুরক্ষা নিরাপত্তা চশমা গগলস ব্যবহার করা যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, রোগী রুমে প্রবেশের আগে রিসিপশনে জিজ্ঞাসার ব্যবস্থা করা রোগী কি লক্ষণ নিয়ে এসেছেন যদি জ্বর, সর্দি এমন হয়ে থাকে তবে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করে নেয়া উচিত শ্বাস-কষ্ট আছে কিনা। যদি থাকে তবে আলাদাভাবে ওনাকে দেখার ব্যবস্থা করা।

তৃতীয়ত, চিকিৎসক এবং নার্স যারা আক্রান্তদের কাছাকাছি অবস্থান করবেন তাঁদের জন্য ভাল হয় এ সময়টি নিজেদের পরিবার থেকে আলাদা অবস্থান করলে। ইরানের অভিজ্ঞতায় বলছি এ অবস্থায় নিজেদের পরিবারকে নিরাপদ রাখতে অনেক চিকিৎস তাঁদের পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছেন।

চতুর্থত, যেহেতু আমাদের দেশে জনসংখ্যা অনেক সেক্ষেত্রে করোনাভাইরাস টেস্টের জন্য পর্যাপ্ত কিটের অভাব থাকবে স্বাভাবিক অথবা সবার টেস্ট করার সুযোগ নেই অথবা টেস্টের ফলাফল আসা কিছুটা দীর্ঘ সময়ের বিষয় সেক্ষেত্রে যারা করোনা নিয়ে চিন্তায় ভুগছেন বিশেষকরে শ্বাস কষ্ট অনুভব করছেন কিছুটা চিন্তা মুক্ত করতে তাঁদের অক্সিজেন Saturation এবং বুকের এক্সরে করা যেতে পারে।

পঞ্চমত, এমার্জেন্সিতে যে রুমে রোগী দেখা হবে তা আইসোলেশন রুম করা যেতে পারে।

যষ্ঠতম, যেহেতু করোনাভাইরাসকে বিশ্বব্যাপী মহামারী ঘোষণা করা হয়েছে সেক্ষেত্রে হাসপাতালগুলোতে এমন লক্ষণ নিয়ে অনেক রোগী আসবে এটায় স্বাভাবিক। অনেকেই স্বাভাবিক সর্দি, জ্বর নিয়ে আসতে পারেন এবং হাসপাতালে এসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন সেক্ষেত্রে হাসপাতালে আসার ক্ষেত্রে তাঁদের অনুৎসাহিত করে হটলাইনগুলোতে কল দেয়ার পরামর্শ দেয়া যেতে পারে।

সবমিলিয়ে বলবো এ অবস্থায় চিকিৎসক এবং নার্স যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিবেন তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনমতেই কমতি করা যাবেনা। আমি যদি ইরানের হিসেব বলি তবে এই পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে ১৪জন চিকিৎসক এবং নার্স জীবন দিয়েছেন আর আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১০৫ জন। আর মারা যাবার মাঝে অনেকে কম বয়সী যেমন একজন ২৫ বছর বয়সী নার্সও আছেন।

অন্যদিকে গত সপ্তাহের এক হিসেবে বলা হয়েছে চীনে ৩ হাজারেরও বেশি চিকিৎসক ও নার্স আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২১ জন মারা গেছেন।তাহলে বুঝতেই পারছেন এমন হলে আমাদের কতটা প্রস্তুতি নেয়া উচিত।

শিক্ষার্থী, ডক্টর অব মেডিসিন, ইস্পাহান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইরান।