অভিমতলীড

“করোনা কাহিনী” দেশীয় ভার্সন

ডা. রাসেল চৌধুরী :

আসুন এই মাস্কের গল্প শুনি, বোনাস হিসেবে সাথে একটি মুচমুচে হোম কোয়ারান্টাইনের থ্রিলার ফ্রি (ট্রল নয়, সত্য ঘটনা), আরো আছে এক বিশাল ৫০ কোটি টাকার গল্প।

আমি যে ফ্ল্যাটে থাকি, সেখানটায় পাঁচটা বিল্ডিং একই কম্পাউন্ডে। সাথে ভিতরেই বিরাট খেলার মাঠ আছে। তাই স্কুল বন্ধ হলেও শুভ্র’র সময় কাটানো নিয়ে নির্ভার ছিলাম।

কিন্তু সকালেই নির্ভার হৃদয়জুড়ে জায়গা নিয়েছে আতংক। আমার পাশের বিল্ডিংয়ের তিন তলায় গত রাতে দুজন ইটালি প্রবাসী ফিরে এসেছেন। তাঁরা আছেন অতি বিখ্যাত 🤔 হোম কোয়ারান্টাইন ব্যবস্থাপনায়।

আগের রাতে খবর পেয়েই ফ্ল্যাট কোম্পানির ম্যানেজার ও বাসিন্দাদের জানালাম। তাঁরা দুজন ইটালি প্রবাসীদের স্ত্রীদের জানালেন, দুজন বাসায় আসার আগেই যেনো পরিবারের আর সবাই অন্যত্র চলে যান। তাঁরা মানবেন বলে কথা দিলেন, আমরা থ্যাংকু বলে চলে আসলাম।

আজ সকালে একজন ফ্ল্যাট বাসিন্দা প্রবাসীদ্বয়ের একজনের স্ত্রীকে দেখলেন মাঠে পায়চারি করছেন। দেখে আঁতকে উঠে বললেল, “যাননি আপনারা? ”

উত্তর এলো, “না কালকে বাচ্চারাসহ সবাই একসাথে ছিলাম। আজ বিকালে যাবো গ্রামের বাড়িতে। ”

ইটালি ফেরতদের ফোন করলাম। তাঁরা ফোন ধরেননি। খবর নিয়ে জানলাম, তাঁরা নরমাল ট্যাক্সিতে নিজেরাই বাসায় এসেছেন, বাজার সদাই করেছেন। আজ রাত থেকে কোয়ারান্টাইনে থাকবেন।

তাই অগত্যা মাস্ক পরে ঘুরছি, যেকোনো সময় তাঁরা হয়তো কোয়ারান্টাইন ব্রেক নিতে নিচে নামবেন।

খোদ ঢাকার এই অবস্থা হলে, সমগ্র বাংলাদেশে কয় টন বিপদ ঘুরে বেড়াচ্ছে বুঝতেই পারছেন। এই লেখার মাঝেই নিউজ দেখলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ইটালি ফেরত এসে দলবেঁধে রুমে আড্ডা দিচ্ছেন গত পাঁচদিন!!!!!

এই হচ্ছে দেশীয় ব্যবস্থাপনার লাগসই কোয়ারান্টাইন।

গত কয়েকদিন ধরেই বলছি, বিদেশের ফ্লাইট বন্ধ করার যথেষ্ট সময় পেয়েও আমরা প্রস্তুতি নিইনি।

ইটালি ফেরত কিছু উজবুকের আবেগের কাছে ১৮ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছি।

অথচ বাচ্চাদের স্কুল বন্ধের অনেক আগেই আমাদের চীন ও ইউরোপের বিমান বন্ধ করার দরকার ছিলো।

এখন উপায়?

বিপদজনক প্রবাসীদের ট্রাক ছেড়ে দিয়েছে, আমাদের ডাক্তারদের এখন ট্রাকের সামনে গিয়ে হাডুডু, হাডুডু খেলে নিজেদের দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে হবে।

ডেংগুতে নগরপিতার অবহেলার কাফফারা দিয়েছি আমরা, আর এবার করোনার কষাঘাতে পিষ্ট হবার পালা।

ভালো থাকুন হোম কোয়ারান্টাইন ধারণার প্রবর্তক নীতি নির্ধারকরা।

সারা বিশ্ব কাঁপিয়ে দেয়া করোনার মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মাত্র ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েও পেয়েছে শুধু ৫০ কোটি।

এই টাকায় চিকিৎসকসহ আপামর স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা কিট ও অন্যান্য উপকরণ কেনার কথা। সাথে রোগীদের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার উপকরণ।

অথচ এদেশে ৬ষ্ঠ গ্রেডের একজন সরকারি কর্মকর্তার জন্য সরকারি টাকায় গাড়ি কেনা বাবদ বরাদ্দ হয় প্রায় ১ কোটি টাকা।

এবার হিসাব করেন তো, করোনা ঝুঁকিতে থাকা সারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতের দায়ভার নেয়া প্রায় ২ লাখ সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীর জীবনের দাম কয়টি চাকার সমান ?