গল্প আড্ডালীড

সাপলুডু

অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল, (সাবেক পরিচালক,  জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ঢাকা)

‘‘ঘরের সব জানালা লাগিয়ে দিচ্ছ কেন, নানা ভাই ?’’

‘‘খোলা চোখে দেখা যায় না এমন একটা শত্রু হানা দিচ্ছে দেশে দেশে, ঘরে ঘরে । শত্রুকে ঠেকাতে হবে না, রোদ্দুর?’’

নাতনিকে প্রশ্ন করে ঘরের দরজায়ও খিল দিতে লাগলেন ষাটোর্ধ বয়সী নানা।

‘‘শোনো, তোমার এ ছেলেমানুষি দেখলে চারপাশের মানুষজন হাসবে, বোকা ভাববে তোমাকে। খোলো, জানালা খোলো, দরজাও খোলা রাখো। নিয়ম পালন করে হাত ধোঁও বারবার। আর মানুষের শরীরের স্পর্শ থেকে দূর থাকো। তাহলেই হবে।’’

‘‘ না। সব এত সোজা না। শুনেছি রোগটার নাম COVID-19 । যদিও ওর বয়স তিন , তবু উনিশ বছর বয়সীদের মতো অবাধ্য, বেপরোয়া আর ভোল পাল্টায় এ শয়তান রোগ। CO নেওয়া হয়েছে করোনা থেকে, VI নেওয়া হয়েছে ভাইরাস থেকে আর D ডিজিজ থেকে। 19 এসেছে ২০১৯ সন থেকে। ওর একগুঁয়ে বৈশিষ্ট্যও মরণঘাতী । ওকে শক্তভাবে আটকাতে হবে না এ যুদ্ধের সময়?’’

‘‘ নানা ভাই, যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি বলেছেন সবাইকে ঘরে থাকতে, দরজা-জানালা বন্ধ করে করোনাকে আটকাতে বলেননি, ওই নীলাকাশও আড়াল করতে বলেননি। বুঝতে পারছ?’’’

আমি কি করোনা ভাইরাস আটকাচ্ছি? নীলাকাশ আড়াল করছি? আমি তো সেনাপতির কথাই মানছি। আমাদের ঘরের উনিশ বছরের বেপরোয়া আর অবাধ্য নাতনিটাকে ঘরে আটকাচ্ছি ।’’

‘‘কেন, আমি কি তোমার শত্রু’’

‘‘বাহ! আমার জান আমার নাতনি, রোদ্দুর, তুমি। ফাঁক-ফোকর দিয়ে তুমি কেবল বাইরে যেতে চাও। সবার সঙ্গে মিশতে চাও। ছটফট করো ঘরে। আজ ক’বার বেরিয়েছ বলতে পারবে? ঘরে থাকতে হবে জেনেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁচ বার বাইরে গেছ। মুখে বলছ এককথা, কাজে আরেক কথা । এ সময় এভাবে চলাফেরা কি ঠিক হচ্ছে?

বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে না?

এখন ঘরে থাকাই হচ্ছে, শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেম। এসো, দাবা খেলি। সাপলুডুও খেলতে পারো আমার সঙ্গে, কী বলো, তুমি?’’