অভিমত

ডাক্তারদের এমন মৃত্যু আর দেখতে চাই না

মোঃ আশ্রাফুল আলম ভূঁইয়া, সদস্য, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি,’একসেস টু হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল’:

‘আর কোন ডাক্তারের এমন মৃত্যু চাইনা’
“সকাল থেকে অজান্তেই একটু পর পর
অশ্রুসিক্ত হচ্ছি। দুটো ফুটফুটে ছোট্ট ছেলের বাবা মঈন ভাই নেই। বাবা যে আর আসবে না, সেটা বোঝার বয়সও ছেলেগুলোর হয়নি।

বহু বছর কোন সাক্ষাৎ নেই কিন্তু বারবার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল লাইব্রেরীতে তার কথা আর পদচারনার ছবি মনে ভেসে উঠছে।

কি নিষ্পাপ একটা মুখ!! মানুষটাও ছিলেন ঠিক তেমনই। নিজের চোখে দেখেছি, কতটা সুন্দর হতে পারেন একজন চিকিৎসক?

চিকিৎসকদের হৃদয় শূন্য করে, সকল প্রচেষ্টা ও দেশবাসীর দোয়া পিছনে ফেলে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে আল্লাহর কাছে চলে গেলেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক, ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ডাঃ মঈন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্নি ইলাইহি রাজিউন।” ডাক্তার মঈনের ব্যাপারে ঠিক এভাবেই সোশ্যাল মিডিয়াই আবেগাপ্লুত স্ট্যাটাস লিখলো তার এক সাবেক সহকর্মী ডাঃ মুহিবুর রহমান।

ডাঃ মঈন যিনি ডেঙ্গুর যখন প্রকোপ ছিল তখনও নিরলস পরিশ্রম করেছেন রোগীদের সেবায়, এমনকি করোনার প্রাদুর্ভাবের পরেও হাসপাতাল এবং চেম্বারে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। তার সম্পর্কে যতটুকু জানা যায়- তিনি নিতান্তপক্ষে একজন অমায়িক চরিত্রের অধিকারী এবং আন্তরিক। ভালোবাসতেন তার রোগীদের। তারাও তাকে ভালোবাসতো। এই ডাক্তারদের অনেকেই দেবদূত বলে, কারণ অনেক রোগী মৃত্যুশয্যা থেকেই সুস্থ হয়ে উঠেন এই ডাক্তারদের অক্লান্ত সেবাতেই।

অথচ, সেই ডাক্তারদের যখন অবহেলায় মৃত্যু হয়, তখন তা তার অন্য সহকর্মী এবং এই মহান পেশাই নিবেদিত মানুষদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। একজন ডাঃ মঈনের মৃত্যুতে যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়াই ঝড় উঠেছে- তাতে এটা স্পষ্টতই বুঝা যায় এই কঠিন সময়েও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছেন- তারা এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত!! এই ডাক্তারদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা বা নিরাপত্তা দেয়াটা আসলে কার দায়িত্ব?!!! ডাক্তারদের যদি এমন অবহেলাজনিত মৃত্যু হয়, তবে সাধারণ মানুষের-ই-বা জীবনের নিরাপত্তা বা সুচিকিৎসা পাওয়ার নিশ্চয়তা কতটুকু? ঠিক এমনটাই এখন জনমনে প্রশ্ন!!!

ডাঃ মঈনের বাঁচার আকুতি ছিল। অথচ কি নিষ্ঠুর সময়!!
নিজের হাসপাতাল তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে।

সিলেটে কোন আইসিইউতে ভর্তি নেয়নি। করোনা রোগী বলে এম্বুলেন্স নিতে রাজি হয়নি।
করোনা রোগী বলে শুরুতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ফিরিয়ে দিয়েছে। আহ!! কি নিষ্ঠুরতা!!!
পরে অবশ্য কুর্মিটোলা হাসপাতালে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

কি নিদারুন নিয়তি!

ডাক্তারদের এমন মৃত্যু আর দেখতে চাই না। কারণ ডাক্তাররা যদি জীবনের সংকটাপন্ন অবস্থায় সুচিকিৎসা না পায়, সরকারী সহযোগিতা না পায়, তবে এ পেশার সাথে যারা জড়িত তারা যেমন কর্মস্পৃহা হারাবে, ঠিক তেমনি সাধারণ মানুষরাও হতাশাই ভুগবে নিজেদের সুচিকিৎসার ব্যাপারে।

লেখকঃ
মোঃ আশ্রাফুল আলম ভূঁইয়া
সদস্য,চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি
‘একসেস টু হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল’।