খবরদেশ

করোনাযোদ্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান ও তার টিমের ছুটে চলা

করোনা ভাইরাসে গত ২৪/০৪/২০২০ইং তারিখে শাল্লা উপজেলায় তিন জন সংক্রমিত হয়েছিলেন। এরপর থেকে থেমে নেই করোনায় আক্রন্ত হওয়া। পর্যায়ক্রমে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম।

এরই মধ্যে করোনা ছোবল দিয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান অফিস সহকারী, স্টোর কিপার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তার গাড়ীর ড্রাইভার, আউটসোর্সিং এ নিয়োজিত এক কর্মীকে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশের গ্রাম ডুমরায় ঢাকা থেকে আগত দুই বোন, ইয়ারাবাদ গ্রামের ষাটোর্ধ বৃদ্ধ, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ীর ড্রাইভার করোনায় আক্রান্ত হন।

এসব খবর ছড়াচ্ছে আতংক। বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে মানা। দোকানপাট বন্ধ। বন্ধ হয়েছে দৈনিন্দন মানুষের আয়ের পথ। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা ও নানা নিষেধাজ্ঞায় স্থবির হয়ে পড়েছে মানুষের জীবন।

এমতাবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালু করা হয়েছে ২০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন ইউনিট। করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এরই মধ্যে সেই রোগী সুস্থ্য হয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান ও তার টিম ছুটে যাচ্ছেন করোনা আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি।

ভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই তার নির্দেশে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষের দ্বারে দ্বারে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরন্তর ছুটে যাচ্ছেন তার টিম। সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষের মাঝে দিয়ে যাচ্ছেন প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরামর্শ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সথে তারা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সংক্রমিত হয়ে যারা শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে রয়েছেন তাদের স্বাস্থ্যের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন তিনি।

ইতোমধ্যে চিকিৎসক,নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবায় শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন সাত জন করোনা রোগী সম্পুর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বিদায় বেলায় চিকিৎসক,নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনা বিজয়ীদের অভিনন্দন জানায় আর রোগীরা তাদের সেবার প্র্শংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। নিজের কর্মস্থলেও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সুন্দর একটি পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।

জানা যায়, করোনায় আক্রান্তদের নমুনা (স্যাম্পল) সংগ্রহের দায়িত্বে আছেন চিকিৎসদের একটি দল। সেই দলে আছেন ডা. মোঃ আবুল ফাত্তাহ সাদী, ডা. নিরুপম রায় চৌধুরী, ডা. এস এম ইমরান হাসান সৈকত, ডা. মির্জা মোর্শেদা, ডা. মোঃ নুরুল হুদা মজুমদার, ডা. সালমা বেগম, তারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন। কারোর শরীরে হাঁচি, কাশি ও জ্বর উপসর্গ দেখা দিলে নমুনা (শ্যাম্পল) সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে সিলেট। যে সব এলাকা লকডাউন করা হচ্ছে, তাদেরকে হোমকোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। বাড়িতে বসেই যাতে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন তাই হাসপাতালে চালু করা হয়েছে হটলাইন নাম্বার।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কামরুল হাসান বলেন, মানুষকে ভালো রাখার জন্যই আমার এই প্রচেষ্ঠা। করোনা ভাইরাস শনাক্তের জন্য আমরা এই পর্যন্ত স্যাম্পল পাঠিয়েছি ১৩০ টি, এর মধ্যে ৯ জনের করোনা টেস্ট (কোভিড-১৯) পজিটিভ এসেছে।করোনা ভাইরাসে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের হোম আইসোলেশন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে আটজন সুস্থ্য হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি ভালো পরিবেশের মাধ্যমে উপজেলাবাসীকে সেবা দিতে। সেবা কেন্দ্রের পরিবেশ সুন্দর হলে চিকিৎসকদের মন-মানসিকতাও প্রফূল্ল থাকে। ভালো পরিবেশ পেলে রোগীর মনোবল ও বৃদ্ধি পায়।