ক্যাম্পাসখবর

শেবাচিম হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস চালু

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে কিডনি ডায়ালাইসিস সুবিধা।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর পটুয়াখালীর বাউফলের বাহেরচরের মো. খসরু আলম সিকদার নামে এক রোগীর কিডনি ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে হাসপাতালের এ নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

জানা যায়, দীর্ঘ দিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ওষুধাগার থেকে ১০টি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন পাঠানো হয় শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে। জাপানের নিপ্রো কোম্পানির তৈরি ওই মেশিনের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। মেশিন ছাড়াও সহায়ক হিসেবে ৫টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ২টি অটোমেটিক ডায়ালাইজার রিফ্রেশার এবং ডায়ালাইসিস বেডসহ অন্য সরঞ্জাম পাঠানো হয়।

সম্প্রতি ওই মেশিনগুলো হাসপাতালের তৃতীয় তলার মেডিসিন বিভাগে পাশে স্থাপন করা হয়। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে কিডনি ডায়ালাইসিস চালু করা হয়। দুপুর ১টা থেকে শুরু হওয়া প্রথম রোগীর কিডনি ডায়ালাইসিস শেষ হয় বিকেল ৪টায়।

হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. মানবেন্দ্র দাস গণমাধ্যমকে জানান, কিডনি রোগীদের ছয় মাসে (প্রতি সপ্তাহে ২ বার) ৪৮ বার ডায়ালাইসিসে প্যাকেজ প্রোগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো ২ লাখ ৪০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত ফি নিয়ে থাকে। কিন্তু উন্নত মেশিন দিয়ে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয় মাসের প্যাকেজ ডায়ালাইসিস করা যাবে মাত্র ২০ হাজার টাকায়। এতে সপ্তাহে দু’টি করে মোট ৪৮টি ডায়ালাইসিসের সুবিধা পাবেন রোগীরা। ফলে রোগীরা অনেক উপকৃত হবেন।

নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আলী রুমি গণমাধ্যমকে জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে আপাতত সংক্ষিপ্ত পরিসরে ডায়ালাইসিসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ ইউনিটে ৪০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে।

শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া কিডনির অন্য সব রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লখ্য, প্রতিষ্ঠার ৫২ বছরে এ প্রথম দক্ষিণাঞ্চলের উন্নত চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে কিডনি ডায়ালাইসিস শুরু হওয়ায় খুশি রোগী, চিকিৎসকসহ সবাই। বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে এ চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল হলেও সরকারি এ হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস করা যাবে মাত্র ২০ হাজার টাকায়।