গল্প আড্ডালীড

ছোট গল্প : মহামারী

ডা. মৌলী আখন্দ :

“ইওর সার্ভিস ইজ নো লঙ্গার রিকোয়ারড আনটিল ফারদার নোটিশ”

মেইলটা পর পর দুবার পড়ল রিমন। তারপরও যেন মাথায় ঢুকছে না তার। তার চাকরিটা আর নেই?

দুবছর অর্থাৎ চব্বিশ মাসের কন্ট্রাক্টে যে প্রোজেক্টে জয়েন করেছিল সে, সেই প্রোজেক্ট বন্ধ?

ভয়ের শীতল স্রোত বয়ে গেল তার মেরুদণ্ড বেয়ে। আজকে মার্চের চব্বিশ তারিখ। ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এখনও একাউন্টে ঢোকেনি।

সুপারভাইজার কামরুজ্জামানকে ফোন করল সে।

“স্যার, একটা মেইল পেলাম…“

কামরুজ্জামান কথা শেষ করতে দিলেন না।

“হ্যাঁ হ্যাঁ, এখন তো কোম্পানির অবস্থা খারাপ, পরে আবার তোমাদের ডাকা হবে…”

“কিন্তু স্যার, কন্ট্রাক্টে তো লেখা ছিল এক মাসের প্রায়র নোটিশ ছাড়া কোনো পক্ষই জব টার্মিনেট করতে পারবে না…”

“আমি এখন একটু ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব, কেমন?”

“স্যার, আমার ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন!” মরিয়া হয়ে বলে উঠল রিমন।

“পেয়ে যাবে, কোম্পানির অবস্থা ভালো হোক, লকডাউন খুলুক, প্রোডাকশন শুরু হোক, পাবে। আমি রাখি।“

“স্যার, আমি অফিস গুডসের কিছু টাকা পেতাম…”তড়িঘড়ি বলে উঠল রিমন।

কামরুজ্জামান থমকে গেলেন। তার মনে পড়ল, রিমন একটা বিল সাবমিট করেছিল বটে। আট হাজার টাকার। তিনি সেই বিল তুলেছিলেনও। কিন্তু খরচ করে ফেলেছেন। লকডাউনের মধ্যে আবার নতুন করে তোলা যাবে বলে মনে হয় না। অফিসের একাউন্টস সেকশন তো বন্ধ।

এক মুহূর্ত দ্বিধা করে বললেন, “এখন তো পুরোটা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তুমি আসো, তোমাকে চার হাজার টাকা দিতে পারবো। বাকিটা সামনের মাসে।“

“সামনের মাসেরটা সামনের মাসে দেখা যাবে”, এই ভেবে আপাতত ফোন রেখে দিল দুজনেই।

———————————————————————-হাসপাতাল থেকে ফিরেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেল তানিয়ার। সোহাগী গাল ফুলিয়ে আছে।

সোহাগী তার বাসার কাজে সাহায্যকারী মেয়েটি, বয়স চৌদ্দ পনেরো হবে।

চার পেরোনো আদৃতাকে ভাত খাওয়াচ্ছে সোহাগী, মুখ থমথমে। তানিয়া দেখেও না দেখার ভান করল। এর সাতকাহন শোনার সময় এখন নেই।

বড় পলিথিন ব্যাগ থেকে সতর্ক হাতে পিপিই বের করে বাথরুমের গামলায় গোলানো সাবান পানিতে চুবিয়ে দিল তানিয়া। চোবানো থাক।

হাসপাতাল থেকে ফেরার হাজারটা হ্যাপা। পিপিই ধোও, এপ্রন ধোও, কাপড় ধোও, সাবধানে গ্লাভস আর মাস্ক ফেলো। চশমা আর মোবাইল ফোন এলকোহল প্যাড দিয়ে মোছ। সবকিছু সেরে গোসল করে খিদেয় চোখে অন্ধকার দেখে তানিয়া।

আদৃতাকে ভালো করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাইরে থেকে ফিরলে আগের মত ঝাঁপিয়ে আসে না। তানিয়া গপগপ করে খাচ্ছিল। খেয়ে একবারে আদৃতার কাছে যাবে।

সোহাগী এসে মুখ গোঁজ করে দাঁড়াল।

“কী ব্যাপার?”

“আমারে বাড়ি পাডায়া দেন।“

“এখন? এই লকডাউনের মধ্যে? বাস চলে?”

“নিচতালার বুয়ারা মাইক্রো ভাড়া করছে, হ্যারার সাথে মাইক্রোতে যামু!”

“কিন্তু কেন? টিভিতে দেখিস নাই যার যার জায়গায় থাকতে বলেছে? তুই যে রাস্তা দিয়ে যাবি, করোনা নিয়ে যাবি তো! বাড়িতে তোর বুড়ি দাদী আছে না? তার করোনা হবে তো!”

সোহাগী ওড়নার প্রান্ত আঙুলে প্যাঁচাতে থাকে। তানিয়া খেতে খেতে বলল, “আর হঠাত করে যাবিই বা কেন? আমার এখন ডিউটি…”

সোহাগী কথা শেষ করতে না দিয়ে বলল, “বাড়িত্থে কইয়া দিসে ডাক্তারের বাসায় কাম করন লাগত না! ডাক্তাররা করোনা হইব সবার আগে! আমি থাকতাম না!”

তানিয়া স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে। মুখের সামনে থেকে ভাত ঝুর ঝুর করে প্লেটে পড়ে যায়।

রিমন যখন ফিরল সোহাগী ততক্ষণে চলে গেছে। সে ব্যাগ গুছিয়েই রেখেছিল। শুধু তানিয়ার ফেরার প্রতীক্ষায় বসে ছিল।

লাজলজ্জা খুইয়ে শেষ পর্যন্ত হাতে পায়ে ধরেও সোহাগীকে রাখা গেল না। এমনকি বেতন বাড়ানোর লোভ দেখিয়েও ফেরানো গেল না তাকে।

তানিয়া দরজা খুলে দিলে রিমন ভেতরে ঢুকে বাজারের ব্যাগ রেখে ডাকল, “সোহাগী…”

তানিয়া বাধা দিয়ে বলল, “নেই। চলে গেছে।“

“চলে গেছে?” রিমন অবাক হয়ে বলল, “চলে গেছে মানে? কখন গেছে? কীভাবে গেছে লকডাউনের মধ্যে?”

“নিচতলার বুয়ারা নাকি মাইক্রো ভাড়া করে যাচ্ছে, ওদের সাথে…”

“কেন গেল, হঠাত করে?”

তানিয়া একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “বাড়ি থেকে নাকি বলেছে, ডাক্তারদেরই সবার আগে করোনা হবে, তাই…”

“খুব ভালো করেছে!” রিমন হঠাত খেঁকিয়ে উঠল, “কবে থেকে বলছি হাসপাতালে যাওয়া ছাড়ো! ছয়মাস পরে ট্রেনিং করলে কী এমন আসে যায়? তাও যদি টাকাপয়সা দিত!”

তানিয়া একজন অনারারি ডাক্তার, বিনা বেতনের কামলা। তাই সবাই খুব সহজেই তাকে ছেড়ে দিতে বলতে পারে। সে কোনো উত্তর না দিয়ে দরজা লাগিয়ে বাথরুমে ঢুকে হ্যাণ্ড ওয়াশ করতে ত্থাকে। কল থেকে পানির বহমান ধারার সাথে মনের গ্লানি ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করতে থাকে।

ট্রেনিং ছেড়ে দিয়ে বাসায় নিরাপদে বসে থাকার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে তার, সে সরকারী চাকরি করে না। করোনা হয়ে সে মরে গেলেও কারো কিছু এসে যায় না। সরকার বলেই দিয়েছেন, বেসরকারি ডাক্তাররা পালিয়ে আছে। তানিয়ার খুব জানতে ইচ্ছে করে, সে কী তাহলে? তার সহকর্মীরাই বা কী, যারা এখনও বিনা বেতনে কামলা খেটে যাচ্ছে?

কিন্তু তানিয়া প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সে তো শপথ করেছিল। হিপোক্রেটিক ওথ!

হ্যাণ্ড ওয়াশ সেরে সরে গেল তানিয়া। মৃদুস্বরে বলল, “বাজার করে এসেছ, গোসল করে নাও।“

শরীরটা ভালো লাগছে না তার। কেমন জানি জ্বর জ্বর লাগছে। মনে হতেই আঁতকে উঠল সে। আল্লাহ যেন জ্বর না হয়! সোহাগী নেই, জ্বর আসলে তার আইসোলেশনে যেতে হবে। আদৃতার কী হবে তাহলে?

মেয়েটাকে বুকের কাছে নিয়ে গল্প শোনাতে শোনাতে ঘুম পাড়াল সে। একটু পরে মাথায় কারো হাতের স্পর্শ অনুভব করল। মুখ তুলে দেখল রিমন নিঃশব্দে এসে বসেছে তার মাথার কাছে। নরম গলায় বলল, “সরি। ভুলে গিয়েছিলাম তোমাকে তো যেতেই হবে!“

তানিয়া কিছু বলল না। বুকের ভেতর থেকে বাঁধভাঙা স্রোত ঠেলে উঠে আসছে। কোনোমতে সামাল দিতে দিতে বলল, “দুপুরে খেয়ে গিয়েছিলে?’
“হ্যাঁ।“

“চা খাবে?”

“আমি করছি।“

দুজন চায়ের কাপ হাতে বারান্দায় এক কোণে গিয়ে দাঁড়াল। বারান্দা এখন বড়ই সংকুচিত হয়ে গেছে পিপিইর কারণে। পিপিই ধুয়ে দিলে চব্বিশ ঘন্টায়ও শুকাতে চায় না, ভেজা পিপিই থেকে টপ টপ করে পানি ঝরতে থাকে বারান্দায়, তাই বারান্দাটা এখন আদৃতার জন্য নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষিত হয়েছে। এক কোণায় কষ্ট করে দাঁড়ানো যায়।

চা খেতে খেতে তানিয়া বলল, “আদৃতার অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে, মিস ফোন করেছিলেন আমাকে।“

“তাই নাকি?”

“হ্যাঁ, বেতন বিকাশে পাঠাতে বলেছেন। তাহলে ও ক্লাস করতে পারবে।“

রিমন প্রমাদ গুনল। হাতে টাকা মোটেই নেই। যা ছিল বাসাভাড়া দিয়ে আর বাজার করে ফুরিয়েছে। সে সন্তর্পণে বলল, “নার্সারির বাচ্চার আবার অনলাইনে ক্লাস! বাদ দাও না!”

তানিয়া মেয়ের পড়াশোনার ব্যাপারে বড়ই সিরিয়াস, সে গম্ভীরমুখে বলল, “না, বাসায় থেকে বোর হয়ে যাচ্ছে বাচ্চাটা! কালকে টাকা দিয়ে দিও আমার কাছে, আমি হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে বিকাশ করে দেব! তোমার আর লকডাউনের মধ্যে বের হয়ে কাজ নেই। সোহাগী নেই, তুমি বাবুর সাথে থেকো, আর প্রোজেক্টের কাজ অনলাইনে করো। ওকে খেলতে বসিয়ে দিলে ও বিরক্ত করে না।“

“আচ্ছা।“ ওর চাকরি না থাকার কথাটা রিমন বলতে চেয়েও বলতে পারল না। তানিয়া হঠাত উত্তেজিত হয়ে বলল, “ওই দেখো ভ্যানের উপর কী!”

রিমন প্রথমটায় বুঝতে পারেনি। বলল, “কী?”

“দেখো, নকল পিপিই বিক্রি করছে ভ্যানের উপর!”

ওর আঙুল লক্ষ্য করে রিমন তাকিয়ে দেখল। হ্যাঁ, রাস্তার পাশে ভ্যানের উপর পিপিই বিক্রি করছে বটে। মৃদুস্বরে বলল, “বাদ দাও না, তোমার কী!”

“আমার কী! জানো, এই নকল পিপিই কিনে নিয়ে ডাক্তার নার্সদের কাছে আসল বলে বিক্রি করে কত বদলোক! করোনা তো এভাবেই ছড়াবে!”

রিমন একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। তার মাথায় আদৃতার বেতন জোগাড় করার চিন্তা।

পরদিন তানিয়া হাসপাতাল থেকে ফেরার পর কামরুজ্জামানের কাছ থেকে চার হাজার টাকা এনে তানিয়ার হাতে তুলে দিল রিমন। তার পরের দিন টাকা নিয়ে হাসপাতালে গেল তানিয়া। ফেরার পথে বিকাশ করে দেবে।

তিন নাম্বার বেডের নেফ্রোটিক সিন্ড্রোমের বাচ্চাটির অবস্থা আজকে একটু বেশিই খারাপ । পেশাব বন্ধ হয়ে গেছে, শরীরে এলবুমিন* শূন্যের কোঠায়। আজকে একটা এলবুমিন পুশ না করলেই নয়। তানিয়া “ইঞ্জেকশন এলবুটিন” লিখে স্লিপ ধরিয়ে দিল।

বাচ্চার বাবা এসে দড়াম করে আছড়ে পড়ল তানিয়ার কাছে। সে বেশ বিরক্তই হল। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার এই সময়ে এ কী উপদ্রব!

“আফা, এলবুটিন একটা আটত্রিশশো ট্যাহা চায়!”

“কেন? পঁয়ত্রিশশো টাকা ছিল তো!”

“কইতাছে করোনার লাইগ্যা দাম বাড়াইছে!”

তানিয়ার মাথায় রক্ত উঠে গেল। এই মহামারীতে যে যা পারছে ব্যবসা করে নিচ্ছে।

“এত ট্যাহা কই পায়াম আফা!”

তানিয়া শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। এখন পুওর ফাণ্ডে তেমন কিছু নেই। থাকার কথাও না।

নুসরাত নামের বাচ্চাটির বাবা নিজে থেকেই চলে গেল। কিছুক্ষণ পর আবার ঘুরে এসে বলল, “আফা আমরার নামডা কাইট্যা দেইন ছে, যাইগা!”

“চিকিৎসা করাবেন না? মরে যাবে তো?”

“ট্যাহা নাই তে কিতা করতাম?”

“যাবেন কোথায় লকডাউনের মধ্যে?”

“যামুগা হাইট্যা। আফনে নামডা কাইট্যা দেইন ছে!”

দীর্ঘ একটা মুহূর্ত তাকিয়ে রইল তানিয়া। তারপর ব্যাগ খুলে এক হাজার টাকার চারটা নোট বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “যান, এলবুমিন কিনে নিয়ে আসেন!”

আদৃতার ক্লাসের বেতনটা দেওয়া হবে না। না হোকগে, নার্সারির বাচ্চা অনলাইন ক্লাস না করলেও কিছু যায় আসে না। তবু তো নুসরাত বাঁচুক।

নুসরাতের বেডের পাশের স্ট্যাণ্ডে এলবুটিনটা ঝুলিয়ে দিতে দিতে তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলল তানিয়া। এমন সময় সি এ আপু ফোন করে বললেন, “তানিয়া আঠারো তারিখ যে পেশেন্টটা এসেই মারা গিয়েছিল মনে আছে?”

তানিয়া মনে করার চেষ্টা করতে করতে বলল,”হ্যাঁ। কেন কী হয়েছে?”

“ওর কোভিড পজিটিভ এসেছে। তুমি আজকেই কোয়ারেন্টাইনে চলে যাও। আমরা ওইদিন যারা ছিলাম সবাই কোয়ারেন্টাইনে যাচ্ছি।“

ভয়ের শীতল স্রোত বয়ে গেল তানিয়ার মেরুদণ্ড বেয়ে। বাসায় ফিরতে ফিরতে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এল তার। ফোন করে বলল, “রিমন, আমি এখন কিছু কথা বলব, তুমি মনোযোগ দিয়ে শুনবে।“

রিমনের বুক কেঁপে উঠল। তানিয়া এভাবে কথা বলছে কেন?

“কী হয়েছে তোমার?”

“আমাকে চৌদ্দ দিন তোমাদের কাছ থেকে আলাদা থাকতে হবে। আমি বাসায় পৌঁছে বেল দেব না, তাহলে আদৃতা টের পেয়ে যাবে। তোমাকে মিসকল দেব। মিসকল দেওয়ার পরে আদৃতাকে ভেতরে রেখে দরজা খুলে দিয়ে তুমি দূরে সরে যাবে। আমি গেস্টরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেব। আদৃতাকে বলবে মা ডিউটি করছে, পরে আসবে, ওকে?” মাথা ঠাণ্ডা রেখে যন্ত্রের মত নির্দেশ দিয়ে যেতে থাকে তানিয়া। কারণ সে জানে সে ভেঙে পড়লে রিমনও ভেঙে পড়বে।

“কিন্তু কেন? কি হয়েছে তোমার?” রিমন চিৎকার করে উঠল।

“আমার জ্বর আসছে। নাথিং সিরিয়াস। ঠিক হয়ে যাবে। এমনি একটু প্রিকশন নেওয়া আর কী!” তানিয়া অভয় দেওয়ার চেষ্টা করল তাকে। “আর হ্যাঁ, আমার ইনহেলারটা গেস্টরুমে রেখে আসো। বাই চান্স যদি শ্বাসকষ্ট হয়!”

“কিন্তু কেন? তুমি মাস্ক পরনি? পিপিই পরনি?”

অতি দুঃখে হাসি পেল তানিয়ার। “তুমি খবর দেখোনি? নকল এন নাইন্টিফাইভ মাস্কে ভরে গেছে মার্কেট। আর নকল পিপিই তো রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিক্রি হচ্ছেই! ওই দিয়ে কি প্রোটেকশন হয়?”

ফোন রেখে রিমন ভেজা চোখে তানিয়ার কাপড়চোপড় আর ইনহেলার গেস্টরুমে রেখে এল। আর তানিয়া ফার্মেসিতে গেল কিছু ওষুধ কিনতে। কোভিডের সিম্পটোমাটিক ট্রিটমেন্ট।

এপ্রন পরা তানিয়াকে দেখে দোকানের বাকি সবাই ছিটকে সরে গেল। দোকানি বিরক্ত গলায় বলল, “আপনাদের দোকানে আসার দরকার কী? আপনারা ডাক্তাররাই তো করোনা ছড়াচ্ছেন!”

ক্লান্ত তানিয়ার উত্তর দেওয়ার শক্তি ছিল না। সে ঝাপসা চোখে তাকাল।

একদিন নিশ্চয়ই এই মহামারী কেটে যাবে। নিশ্চয়ই যাবে। পৃথিবী আবার সুস্থ হবে। কিন্তু সেই সুদিন দেখার জন্য তানিয়া বেঁচে থাকবে তো?

(*এলবুমিন= শরীরের গুরুত্বপূর্ণ প্লাজমা প্রোটিন। মার্কেট নাম এলবুটিন