ডাক্তারি পরামর্শলীড

অস্টিওপোরসিস বা হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ করবেন কিভাবে

ডা. মামুন চৌধুরী রাজু :

অস্টিওপোরসিস বা হাড় ক্ষয় আমাদের সমাজে খুব পরিচিত রোগ। সাধারনত ক্যালসিয়ামের ঘাটতি জনিত কারণে এই রোগ হয়। এই রোগে বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড় নরম হয়ে যেতে থাকে। ফলে অল্প আঘাতেই হাড় ভেংগে যায়। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাথরুমে পড়ে গিয়ে কোমড়ের হাড় ভাংগা বা হাতের কব্জির নিচের হাড় ভাংগার ঘটনা খুব কমন।

পঞ্চাশোর্ধ্ব মহিলাদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ এবং পুরুষদের প্রায় এক পঞ্চমাংশ অস্টিওপোরসিসে ভুগে থাকে। সংখ্যার হিসেবে এটি অনেক বেশী। বিশেষ করে আমাদের মত দেশের জন্য অস্টিওপোসসিস একটা চ্যালেঞ্জ৷ দেশের জনসংখ্যার প্রায় ১৪% (২ কোটি ৪০ লক্ষ) পঞ্চাশোর্ধ্ব। এই হিসেবে দেশে অস্টিওপোরাসিসে আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষ এর মত৷ জনগনের গড় আয়ু দিন দিন বাড়ছে। ২০৫০ সাল নাগাদ প্রবীন নাগরিকের সংখ্যা আরো বাড়বে। এই রোগের চিকিতসা তুলনামূলক ব্যায়বহুল। অনেক ক্ষেত্রেই রুগীর হাড় ভেংগে যাবার পর চিকিতসা করার সময় এই রোগ নির্নয় হয়।

এই ধরনের রোগের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উপায়। খুব সহজ কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলে অস্টিওপোসসিস প্রতিরোধ করা যায়।

(১) ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার খাওয়া৷ যেমন – দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, শিমের বিচি, কাজু বাদাম, পনির, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি।

মানুষের হাড়ের একটা মূল উপাদান হল ক্যালসিয়াম। হাড়ের গঠন ঠিক রাখার জন্য আমাদের খাদ্যে দৈনিক প্রায় ১০০০-১২০০ মিগ্রা ক্যালসিয়াম থাকা উচিত।

(২) গায়ে রোদ লাগানো।

রোদের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকের কোলস্টেরল এর সাথে ক্রিয়া করে ভিটামিন ডি উৎপন্ন করে। ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য রক্ষা এবং হাড়ের গড়নে খুব গুরুত্বপূর্ন।

সাধারনত বলা হয় সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৩ টার রোদে আল্ট্রাভায়োলেট রে পর্যাপ্ত পরিমানে থাকে। নিয়মিত এই রোদ ১৫-২০ মিনিট ত্বকের সংস্পর্শে আসলে দেহে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি হবে। তবে এই সময় যেহেতু কড়া রোদ থাকে তাই মুখ মন্ডল ও হাত পা ঢেকে নেয়া উচিত। সবচেয়ে নিরাপদ পিঠে রোদ লাগানো।
আর সকাল বা বিকেলের রোমান্টিক রোদের আলোয় পর্যাপ্ত আল্ট্রাভায়োলেট রে না থাকায় তখন রোদ পোহালে খুব বেশী উপকার হবার সম্ভাবনা নাই।

(৩) নিয়মিত ব্যায়াম করা।

নিয়মিত ব্যায়াম করলে অস্টিওপ্রটেজেরিন রিলিজ বেশী হয় এবং হাড় ক্ষয় রোধ করে।

(৪) ধূমপান না করা।

ধূমপান করলে হাড়ের অস্টিওব্লাস্ট কার্যক্ষমতা হারায় এবং হাড় ক্ষয় বৃদ্ধি পায়।

(৫) অতিরিক্ত মদ্যপান না করা।

অতিরিক্ত মদ্যপান হাড় ভাংগার ঝুকি বাড়িয়ে দেয়।

উপরে অস্টিওপোড়সিস প্রতিরোধে যেই নিয়ম গুলোর কথা বলা হয়েছে তাদের অনেকগুলো কিন্তু শুধু হাড় ক্ষয় নয় হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগের ঝুকিও কমায়। তাই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন, রোগ প্রতিরোধ করুন।

লেখক : ডা মামুন চৌধুরী রাজু
এম বি বি এস, বিসিএস ( হেলথ)
রেসিডেন্ট (নেফ্রলজি)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।