অভিমতলীড

করোনাকালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুনত্বের আবির্ভাব

ডা. হাফিজুর রহমান :

করোনাকালে মেডিকেল সাইন্স তথা চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুনত্বের আবির্ভাব ঘটেছে। একইসাথে ইন্টারনাল মেডিসিনের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে। মাদার সাবজেক্ট হিসেবে মেডিসিন তার পুরনো জায়গা মজবুত করে নিয়েছে। মেডিসিনের হাত ধরেই ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন ও ট্রান্সফিউশন মেডিসিন জনমনে পরিচিতি লাভ করেছে।

এফসিপিএস, এমডি, এমএস, এমআরসিপি, এফআরসিপি, এমফিল ও ডিপ্লোমা ডিগ্রীর কল্যাণে বেশিরভাগ সাবস্পেশালিটি সম্পর্কে সুপরিচিত ধারণা আছে। তবে ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন ও ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের কার্যপরিধি সম্পর্কে আমাদের ধারণা কিছুটা হলেও কম। কোন রোগের জন্য এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞের কাছে যাবো সে বিষয়ে আমরা কমই জানি। উপসর্গের উপর ভিত্তি করে কোন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে সে বিষয়ে জনমনে একটা ধারণা আছে।

মাদার সাবজেক্ট তথা মেডিসিন, সার্জারী ও গাইনী এন্ড অবসের ছায়াতলেই সাধারণত চিকিৎসা বিজ্ঞানের নতুন নতুন শাখা বিকশিত হয়। করোনার কারণে বিকশিত হওয়ার ধরণ দ্রুততর হয়েছে। ICU কেয়ারের মাধ্যমে ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন তার সক্ষমতা প্রমাণ করতে পেরেছে। আবার টোটাল কেয়ারের অংশ হিসেবে Plasma Therapy এর মাধ্যমে ট্রান্সফিউশন মেডিসিন তার সাপোর্টিভ হ্যান্ডস প্রসারিত করেছে- যা এই সাবজেক্টকে ল্যাবের বাইরে ক্লিনিক্যাল জগতে পরিচয় করে দিয়েছে।

এমনকি Plasma Therapy নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মতো গবেষণধর্মী কাজ করতে গিয়ে বিশ্বের বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল Nature এ BSMMU এর নাম উঠে এসেছে। ICU ও Lab এর বাইরেও এই সাবজেক্ট দুটির কার্যক্রম ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করবে এবং জনগণও উপকৃত হবে। করোনা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে দিলেও নতুন প্রযুক্তির স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার পথ উন্মোচিত করেছে।

তাই করোনাকে ভয় নয়; জয় করার মানসিকতা নিয়ে নতুনত্বকে জায়গা করে দিতে হবে।

লেখক : অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ, এনাম মেডিকেল কলেজ।