গুণীলীড

ডায়াবেটিস রোগীদের সুচিকিৎসা ও সুস্থতা যার ব্রত

স্পেশাল প্রতিবেদন :

দেশসেরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডাক্তারী পাশ করে ডা. এজাজ বারী চৌধুরী ডায়াবেটিস নিয়ে সাধনা শুরু করেন৷ ডা. এজাজ বারী চৌধুরীর বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন কেটেছে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ এবং বারডেমে৷ এছাড়া আমেরিকার জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি এবং ভারতের মুম্বাইয়ের ভেন্কটেশ্বরা ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি উচ্চশিক্ষা লাভ করেন৷ বিগত ১৬ বছর ধরে তিনি ডায়াবেটিস রোগীদের কার্যকর চিকিৎসা, দীর্ঘমেয়াদে তাদেরকে সুস্থ রাখার পরিকল্পনা এবং সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে চিকিৎসা প্রদান করে আসছেন৷ তাঁর ধ্যানজ্ঞান শুধু চিকিৎসাতেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং রোগীদের ভেতর উৎসাহ ফিরিয়ে এনে তাদের জীবনটাকে সুস্থ-সুখী-সুন্দর করার সাধনায় নিমগ্ন৷

বর্তমানে ডা. এজাজ বারী চৌধুরী মেডিনোভা মেডিক্যাল সার্ভিসেস ধানমন্ডি এবং সিটি হাসপাতাল লালমাটিয়া- উভয় প্রতিষ্ঠানের ডায়াবেটিস সেন্টারের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন৷ ইতিপূর্বে তিনি মুন্নু মেডিক্যাল কলেজের ডায়াবেটিস সেন্টারের প্রধান হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন এবং বারডেমের সহপ্রতিষ্ঠান NHN হাসপাতাল গুলোতে দীর্ঘ নয় বছর কর্মরত ছিলেন৷ বাংলাদেশের ডায়াবেটিস চিকিৎসার গাইডলাইন (NSDM) যা আমেরিকার মিনেসোটা International Diabetes Center এবং বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে, সেখানেও সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ডা. এজাজ বারী চৌধুরী৷

বাংলাদেশে প্রথম Patient Support Program (PSP) এর পরিকল্পনা করেন এবং একে সফলভাবে চালু করেন ডা. এজাজ বারী চৌধুরী৷ তাঁর উদ্ভাবিত ভিন্নধর্মী এবং রোগীদের অতিরিক্ত সেবা দেবার এই PSP Program গত দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ বিশ্ববিখ্যাত Sanofi কোম্পানী, ডায়াবেটিস রোগীদের সেবায় অব্যাহত রেখেছে৷ বর্তমানে গ্রামীনফোনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান Telenor Health এর মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে৷

দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত “ডায়াবেটিস মেলা” ছিলো ডা. এজাজ বারী চৌধুরীর দীর্ঘদিনের লালিত আরেকটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন৷ অল্প কয়েকজন উদ্যোক্তাকে পাশে নিয়ে বিশাল বাজেটের ডায়াবেটিস মেলা খুব সফলভাবে সম্পন্ন হয়৷ ডায়াবেটিস রোগীদের সেবা, শিক্ষা এবং চিকিৎসায় নতুন মাত্রা যোগ করে ডায়াবেটিস মেলা৷ বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেলগুলোতে ব্যাপক প্রচারণাও পায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এবং অভূতপূর্ব সাড়া জাগানো ডায়াবেটিস মেলা৷

“ডায়াবেটিসকে কেন ভালোবেসে ফেললেন?” – এই প্রশ্নের উত্তরে ডা. এজাজ বারী চৌধুরী বলেন, কারণ হয়তো.. এই রোগের বৈচিত্র্য এবং প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রেই গোয়েন্দাগিরির প্রয়োজনীয়তা৷ মনে হয়, আমি একটা ডুবন্ত নৌকাকে বাঁচানোর মিশনে নেমেছি এবং শুধুমাত্র কিছু সময় পরপর নৌকার পানি সেঁচে সেটাকে ভাসিয়ে রাখাটাই কেবল আমার কাজ নয়৷ যতোক্ষণ সেই নৌকার সমস্ত ছিদ্রগুলো বের করে, সেগুলো বন্ধ করতে না পারছি.. আমার মিশন unsuccessful.

“ডায়াবেটিস চিকিৎসায় সফলতার সূত্র কি?” – এই প্রশ্নের উত্তরে ডা. এজাজ বারী চৌধুরী বলেন, সবচেয়ে বড়ো যে সূত্র এবং শিক্ষা আমি এই দীর্ঘ ১৬ বছরের ডায়াবেটিস চিকিৎসা করে পেয়েছি, সেটি হলো- রোগীকে জ্ঞানী এবং সচেতন করে তুলতে পারার উপরই ডায়াবেটিস চিকিৎসার আসল সফলতা নির্ভর করে৷ এর গুরুত্ব শুধু ঔষধ লেখার চেয়ে অনেক অনেক বেশী৷

ডা. এজাজ বারী চৌধুরী রোগীর মনের গভীরে ঢুকে তার সমস্ত সমস্যা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন৷ এছাড়া রোগীর আর্থিক অবস্থা, জীবনযাপনের ধরণ, অভ্যেস, পেশা, মানসিক অবস্থা সবকিছু বিশ্লেষণ করে চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করেন৷ ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. এজাজ বারী চৌধুরী ডায়াবেটিস রোগীদের সুচিকিৎসা, শিক্ষা, শরীর-মনের সার্বিক সুস্থতা এবং তাদেরকে উজ্জীবিত রাখাকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন৷