অভিমতলীড

মানবিক চিকিৎসক অধ্যাপক আমজাদ স্যারের আশু রোগ মুক্তি কামনা

আতাউর রহমান কাবুল :

একজন মানবিক চিকিৎসক অধ্যাপক আমজাদ স্যারের আশু রোগ মুক্তি কামনা করছি

১.
ল্যাবএইড হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আমজাদ হোসেন স্যার করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ সংবাদটি শোনার পর থেকেই আমার মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে আছে।
আমি যতদূর জানি, করোনাভাইরাস মহামারী জনিত লকডাউনের সময় অল্প কিছুদিন বাদে পুরো সময় তাঁর চেম্বার খোলা ছিল। করোনার কারণে দেশের সিনিয়র চিকিৎসকগণ যখন ঘরে অবস্থান নিয়েছেন, তখন তিনি ব্যতিক্রমী ও ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিয়মিত জটিল জটিল রোগীর অপারেশন করেছেন। বিষয়টা নিয়ে আমি অবশ্য শঙ্কিত ছিলাম।
২.
অধ্যাপক আমজাদ স্যার একাধারে দেশের একজন প্রথিতযশা অর্থোপেডিক চিকিৎসক, সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী। অর্থোপেডিক বিভিন্ন সার্জারি ছাড়াও তিনি সাফল্যের সঙ্গে সাড়ে তিন হাজারের মতো কোমর ও হাঁটু প্রতিস্থাপন (হিপ অ্যান্ড নী রিপ্লেসমেন্ট) করে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এই চিকিৎসকের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। তাঁর সঙ্গে অনেক জায়গায় গিয়েছি। তিনি আমাকে খুব পছন্দ করেন।

আমাদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত তেঁতুলিয়ার উদ্যোগে পঞ্চগড় জেলায় সম্প্রতি শেষ হওয়া ছয়দিনব্যাপী হাড় ক্ষয় সংক্রান্ত হেল্প ক্যাম্পে উনার যাবার কথা ছিল। ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান থাকায় তিনি যেতে পারেননি এবং পরবর্তীতে আমাদের পঞ্চগড়ে এ ধরনের হেলথ ক্যাম্প করলে তিনি সেখানে যাবেন এবং সরাসরি রোগী দেখবেন বলে আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। একবার এনটিভিতে উনি এবং আমি এই করোনা নিয়ে টকশোতে অংশ নিয়েছিলাম।

তাঁর সামাজিক কার্যক্রম দেখলে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে। তিনি এই বয়সেও চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি শিক্ষা এবং সমাজ সেবায় যে ভূমিকা রাখছেন তা তুলনাহীন। দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত আমেনা-বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠ। গত বছর নিজ চোখে সেই স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম দেখে আমি রীতিমত অভিভূত হয়েছি। এরপর সেখানে অনেকগুলো আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়েছে। চিরিরবন্দর এখন উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা নগরী।
৩.
একজন মানব দরদী চিকিৎসক হিসেবে অধ্যাপক আমজাদ স্যারের জুড়ি মেলা ভার। অনেকের কাছে ল্যাবএইড এর চিকিৎসা ব্যয় বহুল মনে হলেও তাঁর দরজা গরিবের জন্য বরাবরই খোলা। আমি এমন অনেক রোগী পাঠিয়েছি যাদেরকে বিনা ফি’তে তিনি চিকিৎসা পরামর্শ দিয়েছেন। দু’হাত ভরে দান করায় তিনি সুবিদিত। তিনি অনেক বড় মনের, বড় মাপের একজন মানুষ।

সদা হাস্যজ্জল এমন একজন মানব দরদী, পরোপকারী, সমাজসংস্কারক, শিক্ষানুরাগী, দানশীল মানুষের আশু রোগমুক্তি মুক্তি কামনা করছি। এই দেশে আপনার মত মানুষ অনেক বেশি প্রয়োজন। আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দিন।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, দৈনিক কালের কণ্ঠ।