ক্যাম্পাসলীড

বগুড়ার দুই মেডিকেল কলেজেই শিক্ষক সংকট : হতাশ শিক্ষার্থীরা

বগুড়া থেকে এফ শাহজাহান:

বগুড়ার একটি সরকারী এবং আরেকটি বেসরকারী মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ এবং টিএমএসএস মেডিকেল কলেজে দীর্ঘদিনেও শিক্ষক সংকট নিরসন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও হতাশায় ভুগছেন। তারা অবিলম্বে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট।

সরকারী শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ১৫ অধ্যাপকসহ ৫৭ শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সরকারি এই মেডিকেল কলেজে শিক্ষকের এত পদ শূন্য থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। এদিকে, বেসরকারি এ মেডিকেল কলেজ  টিএমএসএস -ও ছয় অধ্যাপকসহ ৮৫ শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজে ২৬ বিভাগে শিক্ষকের অনুমোদিত পদ আছে ১৪২টি। এর মধ্যে ৫৭টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগে সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপকের দুটি পদই ফাঁকা থাকায় পুরো বিভাগটি এখন শিক্ষকশূন্য। শল্য বিভাগে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের দুটি করে চারটি এবং সহকারী অধ্যাপকের তিনটি পদ শূন্য। গাইনি বিভাগে অধ্যাপকের একটি, সহযোগী অধ্যাপকের তিনটিসহ ছয়টি পদ ফাঁকা রয়েছে।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক সংকটে তাঁদের কয়েকটি বিভাগের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কবে এই সংকট নিরসন হবে তাও জানেন না তারা।

মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম আহসান হাবিব জানান, কলেজে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী রয়েছেন। তবে কলেজে শিক্ষক সংকট থাকলেও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে না। এ জন্য প্রত্যেক বিভাগে যে কয়জন শিক্ষক রয়েছেন তাঁরাই অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে সংকট সমাধান করছেন। শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রতি মাসেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। ১৫ অধ্যাপকের শূন্যপদ জরুরি ভিত্তিতে পূরণ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া হৃদরোগ বিভাগে ‘ইন্টারভেনশন কার্ডিওলজি’ পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক বিভাগের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মেডিকেল কলেজে ২১টি বিভাগে ১৯৮ শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে। এর মধ্যে ৮৫ পদই শূন্য রয়েছে।

এই কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, এমবিবিএসে ৪৯৮ ও বিডিএসে ৫৮ জন শিক্ষার্থী পড়ছেন। কিন্তু কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। বেশ কিছু বিভাগে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ থেকে অতিথি বা খন্ডকালীন শিক্ষক এনে পাঠদান করানো হচ্ছে। অতিথি শিক্ষকেরা না এলে ওই দিন ক্লাস হয় না। ক্লাস না হলেও প্রতিবাদ করার উপায় নেই। কারণ, মুখ খুললেই ফেল করে দেওয়ার আশঙ্কাসহ কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়তে হয়।

শিক্ষক সংকট বিষয়ে এই মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ রেবেকা খাতুন জানান, শিক্ষকের পদ শূন্য থাকলেও পাঠদানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালানো হচ্ছে। শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। ওই সব পদে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজেও শিক্ষক না থাকায় ‘অতিথি শিক্ষক’ও তাঁরা পাচ্ছেন না।

এই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাকরা  বিদ্যমান শিক্ষক সংকট নিরসনে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি করছেন।

নিরাময়২৪.কম/এফ শাহজাহান/ইএইচ