গুণীস্লাইড

বাংলাদেশের গর্ব ‘ডাক্তার জাবের খান’

ইমতিয়াজ শাওন:

বাংলাদেশী-আমেরিকান ডাক্তার জাবের আহমদ খান. এমডি। ২০১১ সালে আমেরিকার সেরা চিকিৎসকদের তালিকায় তিনি স্থান করে নেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান “কনজুমার্স রিসার্চ কাউন্সিল অব আমেরিকা” তাঁকে এ সম্মাননা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে কর্মরত আছেন আমেরিকার ডাউন স্টেট ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে।

চিকিৎসা মূলত পেশা হলেও এর প্রধান লক্ষ্য মানুষের সেবা প্রদান। পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে অর্জিত আধুনিক জ্ঞান ও কলাকৌশলের সাথে মেধার সমন্বয়ে সেবায় নিজেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেয়াই যে পেশায় চূড়ান্ত সাফল্য- ডাক্তার জাবের খানের এ স্বীকৃতি সেটাই প্রমাণ করেছে।

বাংলাদেশের মেধাবী ছাত্র জাবের আহমদ খান ১৯৯০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসেস (বিসিএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গাইবান্ধা হাসপাতালে সরকারী চাকুরীতে যোগ দেন। দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর ডিভি লটারীর কল্যাণে ১৯৯৫ সালে আমেরিকার পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্র এসে পড়াশোনার প্রতি সীমাহীন আগ্রহের কারণে তিনি ম্যানহাটানের ক্যাপলানে ভর্তি হয়ে কৃতিত্বের সাথে এমডি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি কর্মজীবন শুরু করেন সেন্ট্রাল ব্রুকলীন মেডিকেল গ্রুপে। লং আইল্যান্ড কলেজ হসপিটাল ও ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হসপিটালেও তিনি কাজ করেন। বর্তমানে ডাউনস্টেট ইউনিভার্সিটি হসপিটালে সহকারী অধ্যাপক এবং মাইমনিডিস হসপিটালে এটেনডিং ফিজিশিয়ান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি কমিউনিটির সেবায় ব্রুকলীনের চার্চ ও ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউ সংলগ্ন ১৮৮ দাহিল রোডে নিজস্ব মেডিকেল অফিস- ল্যাটিনো মেডিকেল অফিস পিসিতে সপ্তাহে পাঁচদিন বিকালে রোগীদের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই অসাধারণ স্বীকৃতি অর্জনের পর ডা. জাবের খান বলেন, আত্মবিশ্বাস ও কর্মস্পৃহা আমাকে এতদূর পৌঁছাতে সাহায্য করেছে ।

তিনি আরো বলেন, আমার মায়ের স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হই। মা-বাবার দোয়া এবং ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার ফলেই বাংলাদেশে এমবিবিএস সম্পন্ন করে সেখানে ডাক্তার হিসাবে কর্মরত ছিলাম। ১৯৯৫ আমেরিকায় এসেই প্রথমেই আমার মেধা ও শ্রম নিয়োগ করি এমডি ডিগ্রী অর্জনে। এ ডিগ্রী কৃতিত্বের সাথে অর্জন করে আমি আমেরিকাতেও চিকিৎসাকেই পেশা হিসাবে গ্রহণ করি।

ডাক্তার জাবের বলেন,  শুধু মাত্র অর্থ উপার্জন চিকিৎসা পেশার মূল বিষয় হতে পারে না। বাংলাদেশ থেকে যারা নতুন আসেন তাদের অনেকেরই মেডিকেইড নেই, এমন অনেককে বিনামূল্যে চিকিৎসা করি। মানুষের সেবা করাতে এক ধরনের আনন্দ আছে। আমি এ আনন্দ পাই। আমার মনে পড়ে ছোটবেলায় মা-বাবার উপদেশ -মানুষের সেবা করার মধ্যেই আনন্দ। রোগীদের অসুবিধাগুলোকে আন্তরিকভাবে উপলদ্ধি করা, তাদের কষ্টের সাথে একাত্ম হয়ে যাওয়া, চিকিৎসার সাথে সাথে তাদের প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া, চিকিৎসা বিজ্ঞানের সর্বশেষ অগ্রগতির সাথে নিজেকে আপডেট করে রোগীদের সবোর্চ্চ সেবা প্রদানের মধ্যেই আনন্দ বিরাজমান।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ জাবের এ খান, এমডি পারিবারিক জীবনে দুই সন্তানের জনক। তার সহধর্মিনী ডা. নাফিছা ইলোরা বাংলাদেশের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রী অর্জন করেছেন। বর্তমানে ম্যানহাটানের ক্যাম্পাসে মেডিসিনে পড়াশুনা করছেন।

নিরাময়২৪/শাওন/ইএইচএস