ডাক্তারি পরামর্শস্লাইড

প্রস্রাবে সংক্রমণে করণীয়

প্রস্রাবের সংক্রমণ অতি পরিচিত একটা সমস্যা। সংক্রমণ এর দিক থেকে এর স্থান দ্বিতীয়। ২০ থেকে ৫০ বছরের মহিলাদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। একইভাবে পুরুষের বেলায় এর হার খুব কম। এর পেছনে দেহের গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। সাধারণত মলে বহনকারী জীবাণু এ সংক্রমণ ঘটায়। আর যেহেতু মেয়েদের মলদ্বার থেকে মূত্রপথের দূরত্ব কম। তাই এরা সহজেই আক্রান্ত হয়।
এ ছাড়া কিছু কিছু মানুষ বিভিন্ন কারণে এ রোগের প্রতি অতিরিক্ত সংবদেনশীল। যেমন : ডায়াবেটিস রোগী, গর্ভবতী, বৃদ্ধ বয়স, কিডনির পাথর, প্রস্টেট গ্ল্যান্ড বড় হয়ে গেলে মূত্রনালিতে ক্যামথটার, পায়ুকামী ও এইডস আক্রান্ত রোগী।
এর উপসর্গগুলো কেমন? প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, পিঠ বা তলপেটে ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাব করা, প্রস্রাবের বেগ সংবরণ করতে না পারা, ঘোলাটে লাল রঙের প্রস্রাব, অতিরিক্ত দুর্গন্ধ। ওপরের উপসর্গের সাথে যখন কাঁথুনি দিয়ে জ্বর আসে তখন বুঝতে হবে সংক্রমণের মাত্রা অনেক বেশি। এমন অবস্থায় চিকিৎসা নেয়াটা জরুর হয়ে পড়ে।
বয়সভেদে এই সংক্রমণের উপসর্গ বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে পারে। শিশুদের বেলায় যেমন কাবার অরুচি, বমি করা বা জ্বর হওয়া, দেহের তাপ মাত্রা কমে যাওয়া, অকারণে বিরক্ত করা, এমনকি পাতলা পায়খানা করা। বৃদ্ধের বেলায় কখনো জ্বর, কখনোবা দেহের তাপমাত্রা কমে যাওয়া, অরুচি, দুর্বলতা, কখনো বা মানসিক ভারসাম্যহীনতা।
কোনো বৃদ্ধ ব্যক্তি যদি হঠাৎ করে জ্বর ও মানসিক ভারসাম্যহীনতা নিয়ে আসে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসক তার প্রস্রাব পরীক্ষা করান।
এ দিকে গর্ভবতী মহিলার প্রায়ই কোনো উপসর্গ থাকে না। তাই চিকিৎসক নিয়মিতভাবে তার প্রস্রাব পরীক্ষা করান কোনো সংক্রমণ আছে কি না দেখতে। কারণ এই নীরব ব্যাধি অনেক সময় জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
শুধু একটি পরীক্ষা করে অতি অল্প সময় এই রোগ নির্ধারণ করা যায়। প্রস্রাব পরীক্ষা, রক্তের শ্বেতকণিকা ও জীবাণুর উপস্থিতিই যথেষ্ট। তবে কী ধরনের জীবাণু এই সংক্রমণের কারণ তা জানতে হলে প্রস্রাব কালচার করতেহয়।
কোনো মহিলার যদি বছরে তিনের অধিক বা পুরুষের একাধিক সংক্রমণ হয় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনেকটা আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। দেহের গঠনের বিশেষ করে রোগীর মূত্র নিষ্কাশন তন্ত্রের গঠনমূলক ত্রুটির কারণে সংক্রমণ বাবার হতে পারে। পুরুষের বেলায় এর সম্ভাবনা বেশি। এ ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। যেমন : আলট্রাসাউন্ড, আইভিইউ এক্সরে, সিসটোসকোন বা সিটিস্ক্যান।
সাধারণ সংক্রমণে তিন থেকে সাত দিন অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হয়। পুরুষের বেলায় সাত থেকে চৌদ্দ দিন। আর যদি সংক্রমণ প্রস্টেটের কারণে হয়ে থাকে তবে মাসাধিকাল ওষুধ খেতে হয়। সংক্রমণের নিশ্চিত কোনো কারণ থাকলে তারও চিকিৎসা করতে হয়। যেমন- কিডনির পাথর থাকলে তা বের করা, প্রস্টেট বড় হলে তা কমানো বা অপারেশন ইত্যাদি। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এর নিয়ন্ত্রণে ভালো কাজ করে। বিবাহিত মহিলারা যৌন মিলনের পর প্রস্রাব করা। গুপ্তাঙ্গ পরিষ্কার করা। মলত্যাগের পর সামনে থেকে পেছনে পরিষ্কার করা। দিনে একবার মলদ্বার সাবান দিয়ে পরিষ্কার করা। বেশি পানি পান করা।
ক্যানবেরির রস নিয়মিত পান করা। এমনকি যে কোনো ফলের রস নিয়মিত পান করলে দেখা যায় সংক্রমণ অনেক কম হয়। এত সব সাবধানতার পরও যদি সংক্রমণ চলতে থাকে সে ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে অল্প মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

লেখক : কনসালট্যান্ট নেফ্রোলজিস্ট
স্কয়ার হাসপাতাল, পান্থপথ, ঢাকা
মোবাইল : ০১৭৩৮৪২৫৩৯