ডাক্তারি পরামর্শস্লাইড

কণ্ঠনালীতে ক্যান্সার হলে

অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরী:::
আমাদের স্বরযন্ত্র বা ল্যারিংস শ্বাসনালীর উপরিভাগের একটি অংশ যা গলার মাঝখানে খাদ্যনালীর সামনে থাকে। ল্যারিংসের মাধ্যমে আমরা শ্বাসপ্রশ্বাস নেই। ল্যারিংসে দুটি ভোকাল কর্ড থাকে। ভোকাল কর্ডের কম্পনের মাধ্যমে আমরা কথা বলি। ল্যারিংসে বা দুটি ভোকাল কর্ডে যদি রোগ হয় তাহলে গলা ব্যথা, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কণ্ঠনালীতে রোগগুলো হচ্ছে জন্মগত, প্রদাহজনিত, পলিপ, টিউমার বা ক্যান্সার। ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে গলার চারদিকে ছড়িয়ে গেলে গলা ফুলে যায় বা গলার গ্ল্যান্ড বড় হয়ে ফুলে যায়। ধূমপান কণ্ঠনালীর ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। এছাড়াও মদ্যপান, পানের সঙ্গে জর্দা, সাদাপাতা খাওয়া, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাদ্য গ্রহণ, অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়া, কণ্ঠনালীর অতি ব্যবহার ইত্যাদিও ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। সব ধরনের ক্যান্সার রোগীর মধ্যে শতকরা ত্রিশ ভাগেরও বেশি হেড নেক ক্যান্সার। বয়স্কদের কণ্ঠনালীর ক্যান্সার বেশি হয় এবং মহিলাদের চেয়ে পুরুষরাই এ ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হয়।
শ্বাসনালীর ক্যান্সারের উপসর্গ
কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন হয়, যা ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসায় ভালো হয় না অথবা ১৫ দিনের বেশি থাকে এবং পরে শ্বাসকষ্ট হয়। গলায় কিছু আটকিয়ে আছে মনে হয়। অনেক সময় ঢোক গিলতে অসুবিধা হয়। গলা ফুলে যাওয়া বা গলার গ্ল্যান্ড বড় হয়ে ফুলে যায়। কণ্ঠনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর কান ব্যথাও হতে পারে। এর কারণ হল একই নার্ভ কান ও কণ্ঠনালীর সঙ্গে সংযুক্ত।
রোগ নির্ণয়
স্বরযন্ত্র বা শ্বাসনালীর ক্যান্সারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ নির্ণয় করা গেলে প্রায় সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। রোগ যখন অ্যাডভান্স পর্যায়ে চলে যায় তখন চিকিৎসায় খুব বেশি একটা সুফল পাওয়া যায় না। যদি কারও দুই সপ্তাহের বেশি গলার স্বর পরিবর্তন বা ভাঙা থাকে বা স্বর পরিবর্তন ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, তবে অবশ্যই নাক কান গলা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বর্তমানে আমাদের দেশে এ রোগ নির্ণয়ের আধুনিক ব্যবস্থা আছে, যেমন ফাইবার অপটিক ভিডিও ল্যারেংগসকপি। যদি কণ্ঠনালীর ক্যান্সার হয়েছে ধারণা করা হয়, তখন গলা থেকে বায়োপসি নিয়ে হিস্টোপ্যাথলজি করলে ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব। যদি রোগী শেষ পর্যায়ে শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসে, তখন জরুরি ভিত্তিতে গলায় অপারেশনের মাধ্যমে শ্বাস নেয়ার জন্য একটি টিউব বসানো হয়, যাকে ট্রাকিওশটমি অপারেশন বলা হয়। পরে বায়োপসি নেয়া হয়।
চিকিৎসা
রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি ও অপারেশনের মাধ্যমে কণ্ঠনালীর ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হলে রেডিওথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করালে রোগী সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। শেষ পর্যায়ে এলে অপারেশন করতে হয়। রোগ যদি গলার গ্ল্যান্ডে ছড়িয়ে যায় তাহলে গলার সেই টিউমারেরও অপারেশন করা দরকার। স্বরযন্ত্রের বা কণ্ঠনালীর অপারেশন করলে মানুষ কথা বলতে পারে না। তখন তাকে কথা বলার জন্য আলাদা ব্যবস্থা নিতে হয়। যেমন কৃত্রিম স্বরযন্ত্রের সংযোজন অথবা খাদ্যনালীর মাধ্যমে কথা বলা যা বিশেষ ট্রেনিংয়ে শিখানো হয়।
লেখক : নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ সার্জন, বিভাগীয় প্রধান, ইএনটি, মেডিকেল কলেজ ফর ইউমেন অ্যান্ড হসপিটাল, উত্তরা, ঢাকা