লীড-1সংগঠন

নেতৃত্বশূন্য স্বাচিপ

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এখন নেতৃত্বশূন্য। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির অনুসারী ১৩ সহস্রাধিক চিকিৎসকের এই সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটি শুক্রবার আনুমানিক বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। প্রচলিত প্রথা অনুসারে কাউন্সিল অধিবেশনে পরবর্তী কমিটির সভাপতি ও মহাসচিব মনোনীত কিংবা নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।

স্বাচিপের শীর্ষ নেতারা পরবর্তী সভাপতি ও মহাসচিব মনোনীত করার গুরুদায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ছেড়ে দিয়ে কাউন্সিল অধিবেশন মূলতবী ঘোষণা করে দেন। সেই থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার অপেক্ষায় অস্থির সময় কাটছে হাজার হাজার চিকিৎসকের। কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার ২৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো ঘোষণা আসেনি।

বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তার কাছে কোনো খবর নেই। প্রধানমন্ত্রী তাদের কাউকে ডাকেননি কিংবা কোনো ঘোষণাও আসেনি। কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় চিকিৎসকদের মধ্যে নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে নানা গুজব ও গুঞ্জনের ডালপালা মিলছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গুঞ্জন ওঠে বিলুপ্ত কমিটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান ও বিএমএর যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজই হচ্ছেন পরবর্তী সভাপতি ও মহাসচিব। তাদের অনুসারী চিকিৎসকদের অনেকে ফেসবুকসহ ও তারবার্তায় আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। কিন্তু কারও কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই বলে তারা স্বীকার করেন। তবে সভাপতি পদপ্রত্যাশী প্রবীণ চিকিৎসক নেতা ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের চুপ মেরে গেছেন।

একটি সূত্র বলছে, তারা ইকবাল আর্সলানকে সভাপতি না দিয়ে অন্য কাউকে দিলে খুশি হবেন। কয়েকজন স্বাচিপ নেতার দাবি প্রধানমন্ত্রী এখনো কারও ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেননি। তিনি বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। স্বাচিপকে ঢেলে সাজাতে সর্বগ্রহণযোগ্য প্রার্থী খুঁজছেন। শেখ হাসিনা নতুন কাউকে নেতৃত্ব দায়িত্ব দিয়ে চমকও দেখাতে পারেন বলে কেউ কেউ দাবি করেছেন।

কেউ কেউ বলছেন, নেত্রী কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে দিতে পারেন। ভোটার তালিকা সংশোধন করে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে নির্দেশনা দিতে পারেন। তবে এর সবই অনুমাননির্ভর। প্রধানমন্ত্রী কার ভাগ্যের চাকা খুলে দেন তা জানতে অপেক্ষার ক্ষণগণনা করতে হবে।