গুণীলীড-9

প্যাট্রিক সূন সিওঙ : বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ডাক্তার

ফয়সাল আলম :
বলাবাহুল্য চারদিকে যত বিলিয়নার দেখি তার সবই ইঞ্জিনিয়ার, টেকনোলজিস্ট আর কমার্সের স্টুডেন্ট মানে ব্যবসায়ী। সেই চিন্তায় গুগলে সার্চ দিলাম। দুই একটা ডাক্তার কি নাই এমন? যদি পাই।

বাংলাদেশের মা বাপ এত সখ কইরা সন্তানরে ছোটবেলা থেকে শিখায় ডাক্তারি নাকি টাকা আর টাকা। জনগন ও বিলাপ করে, ছ্যাপ দিয়া ভিজিটের টাকা ভেজায় এমনভাবে যেন বন্যায় সব নিয়ে যাচ্ছে তার। কমার্সের মাথায় নাকি কিচ্ছু নাই, নাইনে উঠলে সায়েন্স নেওয়া ফরজ কইরা দেয় সবাই কিন্তু টাকা অর্থ বিত্তের প্রশ্নে মেডিকেল সায়েন্স এখনো মধ্যযুগে।

হুম, খুজে বের করলুম বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ডাক্তার। তবে এই একজনই সেই অমুল্য রতন পেলাম । এর মানে দাঁড়ায় ডাক্তারি করে বিলিয়নার হওয়া প্রায় অসম্ভব সাধনা । সেই সাধকের নাম Dr patrick soon shiong… বর্তমানে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী jeff bezos এর ১১২ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে তার আছে এখন ৯ বিলিয়ন ( বাংলাদেশী টাকায় যা ৭২ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি) আমাদের কাছে যা কল্পনার অতীত।

আপনি কি ভাবছেন এই লোক বিসিএস হাসিল করে আর লাইব্রেরিতে বসে FCPS, MD এর জন্য লাইব্রেরি ওয়ার্ক করে, আঁতলামি করে করে, খ্যাপ মেরে, চাকরি করে, জ্ঞান বিলি করে, বিকাল ৫ টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত ২ হাজার টাকা ভিজিটে রোগী দেখে এই টাকা কমাইছে? উমহু। উনি একজন FRCS ডিগ্রীধারী আমেরিকান সার্জন, সাথে একজন ডক্টোরাল রিসার্চার।

১৯৮৭ সালেই প্যানক্রিয়াটিক সেল প্রতিস্থাপন তার হাত ধরে শুরু হয়। প্রোটিন ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে যুগান্তকারী ড্রাগ Protein-bound paclitaxel এর প্যাটেন্ট বানান। এখন পর্যন্ত ১০০ ড্রাগের প্যাটেন্ট তিনি তৈরি করেছেন। এমনিতেই সব ক্যান্সারের ড্রাগ, যার প্রতিটা বিক্রি হয় বেশ চড়া দামে।

এর মধ্যেই কয়েকটা ফার্মাসিউটিক্যালসের মালিক হয়েছেন। সেগুলোকে আবার ড্রাগ এর প্যাটেন্ট বানিয়ে ফার্মা কোম্পানিসহ বিক্রি করেছেন চড়া দামে। আমরা ব্যাসিকে নাক সিটকাই,সবাই ক্লিনিশিয়ান হতে চাই। অথচ রিসার্চ, ব্যাসিক জ্ঞান সাথে ব্যবসায়িক মনোভাবই পারে আপনাকে বিলিয়নার করে তুলতে।

আর মানবসেবাও তারাই বেশি করে। তাদের বানানো ড্রাগে মানুষ বাঁচে। ডাক্তারি পেশা টিকেই আছে ড্রাগের উপর।