গুণীলীড-7

সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান : কুমিল্লার স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের প্রাণ পুরুষ

ডা. কামরুল হাসান সোহেল :

ডা. মুজিবুর রহমান স্যার কুমিল্লা জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদানের পর থেকে আজ পর্যন্ত উদয়াস্ত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কুমিল্লা জেলার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য। স্যার একদিনের জন্য ও তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি, স্যার নিয়মিত জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য সেবার তদারকি করছেন, মাসিক সমন্বয় সভা করছেন সব ইউএইচএফপিও সহ স্বাস্থ্য খাতের অন্যান্য কর্মকর্তা,কর্মচারীদের সাথে, নিয়মিত দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন সবাইকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে উন্নত এবং কার্যকর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য।স্যার নিয়মিত কুমিল্লা জেলার সকল সরকারী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো আকস্মিক ভিজিট করেন,এবং কোথাও কোন ভুল ত্রুটি থাকলে তা শুধরে দেন, কোথাও কারো কোন গাফিলতি থাকলে তাকে শাস্তি দেন। স্যারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ও দিক নির্দেশনায় কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সারাদেশে HSS Scoring এ অধিকাংশ সময়েই প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।শুধু দাউদকান্দি,তিতাস উপজেলাই নয়,দুর্গম মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ও স্যারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রসূতিদের জন্য অস্ত্রোপচার (সিজারিয়ান সেকশন) শুরু করা সম্ভব হয়েছে,নাঙলকোট, চৌদ্দগ্রাম সহ আরো বেশ কয়েকটি উপজেলায় প্রসূতিদের জন্য অস্ত্রোপচার করা চালু হয়েছে।

স্যারের নেতৃত্বে প্রায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের মাধ্যমে শহরে এবং বিভিন্ন উপজেলায় লাইসেন্সবিহীন, অনুমোদনহীন,বিভিন্ন শর্ত পূরণ না করার কারণে নানা সময়ে প্রায় ৫০+ বেসরকারি ক্লিনিক,হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেন। স্যারের এই অভিযানে ভীত হয়ে এখন সবাই লাইসেন্স,অঅনুমোদন সহ সব শর্ত পূরণ করার চেষ্টা করে,এর ফলে স্বাস্থ্য খাতের গুনগত মানে পরিবর্তন আসছে এবং সেবার মান ও বাড়ছে।

ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও স্যার খড়্গহস্ত, স্যার নিজে এদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন এবং অন্যান্য উপজেলার ইউএইচএফপিওদের ও বলেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে। ভুয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আছে অনেকেই হাইকোর্টে রিট করে তাদের নামের আগে ডাঃ লিখার অনুমতি পেয়েছে এখন এমন কাউকে ভুয়া ডাক্তার হিসেবে দন্ড দিলে উল্টো আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

স্যারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কুমিল্লা জেলা পেয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন সিভিল সার্জন কার্যালয়, ১০০ শয্যা বিশিষ্ট কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল কুমিল্লা শহরে স্বাস্থ্য সেবায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে, ইপিআই,জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিসহ সব জাতীয় কর্মসূচীতে সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে কুমিল্লা জেলা এগিয়ে, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ও কুমিল্লা জেলা অগ্রণী। কুমিল্লা জেলার স্বাস্থ্য খাতকে সারা দেশের জন্য রোল মডেল করতে স্যারের নিরলস প্রচেষ্টা ভূয়সী প্রশংসার দাবীদার। স্যারের জন্য রইলো অনেক শুভ কামনা, কুমিল্লা জেলার স্বাস্থ্য খাতে স্যারের হাত ধরে যে যে সাফলা অর্জিত হয়েছে সেজন্য স্যারকে অভিনন্দন।

লেখক : আজীবন সদস্য, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ , কুমিল্লা জেলা।
কার্যকরী সদস্য at স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ
আজীবন সদস্য,বিএমএ কুমিল্লা।
সেন্ট্রাল কাউন্সিলর, বিএমএ কুমিল্লা