শিক্ষা কথাস্লাইড

রোগের নামকরণ করা হয় যেভাবে

ডা. সাঈদ সুজন :

পৃথিবীতে লাখ লাখ রোগ আছে। কিছুর নাম জানা, অনেক রোগের নাম অজানা। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগ আবিষ্কৃত হচ্ছে। আবার অনেক রোগের সিংগেল সোর্স অরিজিন মাল্টিপল সিম্পটম নিয়ে সিন্ড্রোম আবিষ্কৃত হচ্ছে। আসুন জেনে নেই কিভাবে এই সব রোগের নামকরণ করা হয়।।

গতানুগতিক ভাবে রোগের নামকরণ করা হতো তিনটা উপায়ে:

১. প্রথম আবিষ্কৃত রোগীর নামানুসারে। যেমন- পৃথিবীর সবচেয়ে বিরল রোগ Fields Disease নাম আসছে রোগীর নামানুসারে। কারণ সারা পৃথিবীতে ২ জন রোগী, ফিল্ড নামের জমজ দুই বোনের।

২. যে ডাক্তার অথবা বিজ্ঞানী প্রথম ঐ রোগ আবিষ্কার করেছেন। যেমন – Addison’s Disease.

৩. রোগের নাম হতে পারে জায়গার নাম দিয়ে – যেমন German Measles, Ebola Fever,

এখানে জানা উচিৎ – কিছু রোগের নাম আসছে, যেই গুলোর রোগী এবং আবিষ্কারক সেম পারসন। যেমন- হান্টিংটন ডিজেজ আবিষ্কার করেছেন হান্টিংটন। এই রোগ তার নিজের, তার বাবার, তার দাদার। কারণ অটোসোমাল ডমিন্যান্ট। এছাড়াও রিকেটসিয়া, ক্যারিয়ন ডিজেজও একি ভাবে আসছে।

এভাবে নাম ধরে রোগের নাম আসতে থাকলে। ধীরে ধীরে সব নাম রোগ দখল করে ফেলবে। তাই ১৯৭৫ সালে ক্যানাডিয়ান ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অফ হেলথ এভাবে নাম দিয়ে রোগের নাম রাখতে নিরুৎসাহিত করেছেন। (The Lancet)

পরবর্তীতে রোগের নাম রাখার জন্য নিচের রুলগুলো মানা বাধ্যতামূলক:

১. রোগের নামের ক্ষেত্রে কোনো ইতিহাস বিরোধী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুর প্রশ্ন আসতে পারবে না।

২. রোগের নাম অন্য কোনো রোগের নাম প্রেজেন্টেশন এর সাথে দৃশ্যমান পার্থক্য থাকতে হইবে।

৩. কোনো রোগ বিলুপ্ত হলে আন্তর্জাতিক সংঘটন তা ঘোষনা করবে।

এখন রোগের নাম নিয়া কিছু মজার টপিক:

১. লরেঞ্জ বুট সিন্ড্রোম আবিষ্কৃত হয়েছিল, কিন্তু কয়েক বছর পরে তা ভুল ডায়াগনোসিস প্রমাণিত হয়।

২. একই রোগকে একেক দেশে একেক নামে ডাকতে পারে। যেমন – Iron Deficiency Anemia এর কমপ্লিকেশন হিসেবে Dysphagia হয়।।

একে – Plummer Vinson Syndrome বলা হয় আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতে, Peterson Kelly Syndrome বলে ব্রিটিশরা এবং Walderstrom Kjellberg syndrome বলে নরওয়ে, ডেনমার্কে।

লেখক :

ডা. সাঈদ সুজন

রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ।