অভিমতলীড-10

চিকিৎসক লাঞ্ছিতের ঘটনায় প্রতিক্রিয়াহীন মহাপরিচালক বিজ্ঞাপন দিয়ে শুভেচ্ছা দিলেন মন্ত্রীকে

ডা. বাহারুল আলম :

জনগণের অর্থ ব্যয়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য, স্বনামে মন্ত্রী-দ্বয়ের স্তুতি সম্বলিত বিজ্ঞাপন পত্রিকায় প্রকাশ- এর প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত রুল জারি করেছে
……………………………
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অভ্যন্তরে দুর্বৃত্তদের হামলায় চিকিৎসক লাঞ্ছিত, ভাংচুরের ঘটনায় প্রতি-ক্রিয়াহীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, উপরওয়ালাদের খুশী করতে চাটুকারি বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে অতুলনীয়। অথচ একই মহাপরিচালক নিজ অবস্থানকে পাকাপোক্ত করার জন্য তার মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয়/ জনগণের অর্থ ব্যয় করে স্তুতি বিজ্ঞাপন গণমাধ্যমে দিয়েছে। সকল নীরবতা কেবল কর্মরত চিকিৎসক মাইর খেলে, হাসপাতাল ভাংচুর হলে। তখন কোন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে পত্রিকায় বক্তব্য প্রকাশিত হয় না।

এরূপ নীরবতা ও চাটুকারিতার ফলও পেয়েছে সে। মন্ত্রীর বদৌলতে অন্যকে বঞ্চিত করে মহাপরিচালকের চাকুরীর সময়সীমা আরও দু’ বছর বর্ধিত করা হয়েছে। দুর্নীতির অনন্য অসাধারণ উদাহরণ। বিষয়টির বিচার চেয়ে জনৈক নাগরিক উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করলে আদালত– এ ধরণের কার্যক্রম কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না মর্মে জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারি করেছে।

নাগরিকদের দেয় করের অর্থ দিয়ে নাগরিক নেতাদের সম্বর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত যাদের মস্তিষ্কে এসেছে- তারা অত্যন্ত শঠ ও ধূর্ত। এ যেন মাছের তেল দিয়ে মাছ ভাজার আবহমান কালের বাংলার প্রবাদের বাস্তবতা।

নিজ হৃদয় থেকে উৎসারিত কৃতজ্ঞতা, ভালবাসা নয়, কড়ি দিয়ে কেনা এ ভালবাসার কড়ি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে যাবে। রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ ধুর্তমি করতে মোটেও ভুল করে না। রাষ্ট্রীয় আইনে অপরাধী হলেও বিবেকের মানদণ্ডে তারা অপরাধী নয়।

বিপুল অর্থ ব্যয়ে প্রচার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে যে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করল এসব কর্মকর্তারা -/মন্ত্রী কখনও খোঁজ নেয়নি এ অর্থের উৎস কোথায়? অর্থের যোগান যদি কর্মকর্তাদের নিজ তহবিল থেকে হত তাহলেও এরূপ চাটুকারিতা অপরাধ হিসাবেই গণ্য হত। কোন নাগরিক এ ধরনের বিজ্ঞাপন দিলেও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের এরূপ চাটুকারি বিজ্ঞাপন দেওয়ার এখতিয়ার নাই।

প্রশ্ন উঠবে অপরাধী কে? চাটুকার না মন্ত্রী?

প্রায় সকল ক্ষেত্রে মন্ত্রীরা পরিদর্শনে গেলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে সম্বর্ধনার নামে বিপুল অর্থ ব্যয় করে। মন্ত্রীদের (অতীত ও বর্তমান) কখনও এ অর্থ ব্যয়ের উৎস খুঁজতে দেখা যায়নি। উপরন্তু অনাড়ম্বর সম্বর্ধনা দানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে শাস্তি স্বরূপ অন্যত্র বদলী করতে দেখা গেছে। একেবারেই ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের উপনিবেশ। লর্ড-শিপ ও তার কলোনি অতীত ঐতিহ্য নিয়ে অবিকল বেঁচে আছে স্বাধীন বাংলাদেশে।