খবরলীড-5

ঝাড়ু দেয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ চিকিৎসক

জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা সপ্তাহের উদ্বোধনী দিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে পরিস্কার অভিযানের নামে ঝাড়ু দেয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন চিকিৎসকেরা।
এ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় খোলামেলা মন্তব্য করেছেন তারা। বলছেন, ঝাড়ু দেয়ার কাজ চিকিৎসকের নয়। এজন্য তো নির্দিষ্ট জনবল নিয়োগ দিয়েছেন সরকার। অফিস সময়ে চিকিৎসা-সেবা প্রার্থীকে চিকিৎসা দেয়া আপনার মূল কাজ; ঝাড়ু দেয়া নয়।

নিউটি তৈরিতে যেসব চিকিৎসকের ফেসবুক স্ট্যাটাস ব্যবহার করা হয়েছে: ডা. মিল্টন হাসনাত (Milton Hasnat), ডা. জয়নাল আবেদীন টিটু (Zainal Abedin Titu), ডা. নাছিমন নাহার মিম্ মি (Nasimon Nahar), ডা. এজাজ বারী চৌধুরী (Ejaz Bari Choudhury)।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ডা. মিল্টন হাসনাত তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে ঝাড়ু দেয়ার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন। এ কতিপয় চিকিৎসক-নার্সের এ কাজকে তিনি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ নিয়ে প্রশ্ন!

স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ কেন রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করা হোল না? কেন সপ্তাহের একটিমাত্র ছুটির দিন ‘শুক্রবার’ এতে অন্তর্ভুক্ত করা হোল যাতে শুক্রবারও ডাক্তারদের কাজে যেতে হচ্ছে। আর কিছু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে এ উপলক্ষ্যে কতিপয় ডাক্তারই বা কেন ঝাড়ু হাতে রাস্তা পরিষ্কার করতে নামলেন? পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া মানে কি ঝাড়ু হাতে নিজেদেরই হাস্যকরভাবে ঝাড়ু দেওয়া?

স্বাস্থ্যখাতে এসব হ য ব র ল অবস্থা দেখার মত কেউ নাই?

ডা. জয়নাল আবেদীন টিটু লিখেছেন, সরকারী হাসপাতালে এমনিতেই ডাক্তার এবং সহযোগী স্টাফের মারাত্মক সংকট চলছে। এমতাবস্থায় ডাক্তার নার্সগণ যদি আপন কর্তব্য বাদ দিয়ে ঝাড়ু হাতে ময়লা পরিষ্কার করতে লেগে যান, তাহলে, অপেক্ষমান রোগীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও সেবা না-পেয়ে ব্যাথায় চিৎকার করতে থাকবে। এর সাথে জুটবে অভিশাপ।

সরকারি হাসপাতাল ঝাড়ু দেবার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ঝাড়ুদার নিয়োগ দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের; সেখানে কর্মরত ডাক্তারের নয়।

পর্যন্ত সংখ্যক ঝাড়ুদার নেই, তাই আপনি নিজেই ঝাড়ু দিতে লেগে যাবেন!

ডা. নাছিমন নাহার মিম্ মি লিখেছেন, একজন খুবই সামান্য চিকিৎসক হিসেবে সম্মানিত স্যাররা আপনাদের এই কাজে বিরক্ত বোধ করেছি Honesty. আচ্ছা আমাদের সিনিয়ররা এমন কেন? চিকিৎসকদের কর্মস্হলে নিরাপত্তা সহ বেতনভাতা ইস্যুতে বোবা কালা অথচ এসব ব্যাকবোনলেস কাওয়ার্ড এটিচিউড মার্কা শোঅফে খুব স্বচ্ছন্দ।

ঝাড়ুকর্মে জড়িতদের তীক্ষ্ণবাণে বিদ্ধ করেছেন ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. এজাজ বারী চৌধুরী। তিনি লিখেছেন, ময়লা আবর্জনার মাঝে লুকিয়ে থাকা রোগ জীবানুর কারনে হাসপাতালে কত শত রোগী মারা যায়৷ যারা বেঁচে যায়, তাদেরও লাগে হাজার হাজার টাকার ঔষধ! জনগনকে এই দূর্দশা থেকে বাঁচাতে, হাসপাতালের প্রতি ৫ হাত জায়গা ঝাড়ু দিতে ৬ জন বিশেষজ্ঞ ঝাড়ুদার নিয়োগ করা হয়েছে! এতো সময়োপযোগী এবং মহৎ একটা উদ্যোগ নিয়ে কেন সমালোচনা হচ্ছে… বুঝলাম না!